বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর উদ্ভাবন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জন্ম এবং এর বিকাশের পেছনে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি বিশ্লেষণাত্মক মতামতে বলা হয়েছে, যদি এআই-এর পুরো প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র সরকার এবং সাধারণ মানুষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে সম্ভবত এই প্রযুক্তির কোনো অস্তিত্বই থাকত না।

মানুষ সাধারণত পরিচিত এবং জানা তথ্যের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে চিন্তা করে, যা স্বাভাবিক। তবে এই সীমাবদ্ধতা যখন সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় এবং তা সত্ত্বেও সরকার নতুন কিছু গঠন বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, তখন তা হয়ে দাঁড়ায় অসংলগ্ন। অর্থাৎ, সরকার যে তথ্যের সীমাবদ্ধতার মধ্যে বাস করে, সেই জ্ঞান দিয়েই যদি তারা এআই-এর মতো জটিল প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করতে চাইত, তবে উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতো।

মূলত, উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা অনেক সময় প্রচলিত সরকারি কাঠামোর বাইরে গিয়ে কাজ করে। প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে চিন্তা করার সাহসের কারণেই আজকের এআই সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার যখন নিজেদের সীমাবদ্ধ জ্ঞানকে চূড়ান্ত বলে ধরে নিয়ে প্রযুক্তির গতিপথ নির্ধারণ করতে চায়, তখন তা প্রকৃত উদ্ভাবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয়েছে যে, এআই-এর বর্তমান সাফল্য মূলত সরকারি নিয়ন্ত্রণহীন সৃজনশীলতার ফসল, যা কেবল প্রচলিত শাসনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে সম্ভব হতো না।