যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ইসরায়েল সফর করেছেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই খবরের কথা জানিয়েছে, যা দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই সফরের কথা জানালেও প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেছে। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট 'নেসেট'-এর নির্বাচন খুব সন্নিকটে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তথ্য প্রদান করা হয়নি। ফলে দুই দেশের উচ্চপদস্থ এই দুই নেতার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এখনো অজানাই রয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের পর ইসরায়েলে এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
নির্বাচনের মাত্র ৯ দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লিখেছেন যে, তিনি নেতানিয়াহুকে তাঁর 'পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ সমর্থন' দিচ্ছেন এবং বিশ্বাস করেন যে বিবি নেতানিয়াহু কখনো হতাশ করবেন না। আগে এমন জল্পনা ছিল যে ট্রাম্প হয়তো এবার সমর্থন দেবেন না, তাই তাঁর এই প্রকাশ্য ঘোষণা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে, যদিও বিরোধীরা সরকার গঠনের মতো অবস্থায় পৌঁছাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপরীতে ভিন্ন সুর শোনা গেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কণ্ঠে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে নিজেকে জড়াতে চান না। যদিও তিনি বলেন যে তিনি নেতানিয়াহুর বিরোধী নন, তবে এই মুহূর্তে কোনো সমর্থন দিচ্ছেন না।
এদিকে, নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সিআইএ-র বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে দেশটিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরানের সাথে দুই দফায় যুদ্ধের পর বর্তমানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে নেতানিয়াহু এই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন।




