দক্ষিণ কোরিয়ায় আলোচিত ইউনিফিকেশন চার্চের শীর্ষ নেত্রী হান হাক-জাকে ঘুষ ও রাজনৈতিক তহবিল সংক্রান্ত অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের স্ত্রী কিম কিয়ন-হিকে চ্যানেল ব্যাগ ও হীরার নেকলেসসহ মোট ৮ কোটি ওন (প্রায় ৫৭ হাজার ৯০০ ডলার) মূল্যের উপহার দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা ঘোষণা করা হয়।
কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, হান হাক-জার নেতৃত্বাধীন চার্চটি ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কিম কিয়ন-হিকে এসব বিলাসবহুল সামগ্রী দেয়, বিনিময়ে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এই বছরের শুরুর দিকে চার্চের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে কিমকে ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। তবে হান হাক-জা, যিনি ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সান মিয়াং মুনের ৮৩ বছর বয়সী বিধবা, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে 'মিথ্যা' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মামলার তদন্তে নিয়োজিত বিশেষ কৌঁসুলি দল জানিয়েছে, কিম চার্চের কাছ থেকে ওই বিলাসবহুল পণ্যগুলো গ্রহণ করেছিলেন। কৌঁসুলিরা আরও জানান, এই তদন্তই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে চার্চটি রাজনীতিতে প্রভাব কেনার চেষ্টা করেছিল। এ সময় হান হাক-জার ব্যক্তিগত নিরাপদ দানবক্সে পাওয়া ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড) নগদ অর্থের ছবিও প্রকাশ করে তদন্তকারীরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি চ্যানেল ব্যাগ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরে সেগুলো ব্যবহার না করেই ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। গত বছরের আগস্টে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছিলেন, 'আমার মতো একজন সামান্য মানুষ মানুষের উদ্বেগের কারণ হওয়ায় আমি সত্যিই দুঃখিত।'
ইউনিফিকেশন চার্চ, যার আনুষ্ঠানিক নাম 'দ্য ফ্যামিলি ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড ইউনিফিকেশন', ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন সান মিয়াং মুন, যিনি নিজেকে মশীহ দাবি করতেন। এই চার্চটি মূলত বিশাল সামষ্টিক বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য পরিচিত, যেখানে হান এবং তার প্রয়াত স্বামী স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দম্পতিকে বিয়ে দিতেন।
সমালোচকরা এই সংগঠনটিকে 'কাল্ট-সদৃশ' বলে বর্ণনা করেছেন। আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, চার্চটি তার অনুসারীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দান করতে বাধ্য করে। 'মুনি' শব্দটি প্রতিষ্ঠাতার নাম থেকে এসেছে, যা সমালোচকরা ব্যবহার করেন এবং অনেক সদস্য এতে ক্ষুব্ধ হন।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যার পর ইউনিফিকেশন চার্চটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। অভিযুক্ত হত্যাকারী দাবি করেছিল, চার্চটি তার পরিবারকে দেউলিয়া করে দিয়েছে এবং আবে এই সংগঠনকে প্রচার করার কারণে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল।
চার্চটির সিউল, টোকিও এমনকি ওয়াশিংটনেও রাজনীতিবিদদের সাথে ব্যাপক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২১ সালে চার্চের নতুন থিংক ট্যাংক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই তালিকায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, শিনজো আবে এবং সিউল ও বুসানের মেয়ররা।
বিশ্বের কিছু অংশে, যেমন সিঙ্গাপুরে, এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ। জাপানে এটিকে বিলুপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।




