ঘানার রাজধানী আকরায় নেওপ্ল্যান বাস স্টেশনে প্রতিদিনের মতো শুরু হয় প্রার্থনার মাধ্যমে। এখানে একদল খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারক প্রস্তুত হন সারা দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মাঝে সুসমাচার পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তবে দীর্ঘদিনের এই পরিচিত প্রথাটি এখন হুমকির মুখে, কারণ দেশটির সংসদ সম্প্রতি গণপরিবহনে ধর্মপ্রচার নিষিদ্ধ করে একটি নতুন আইন পাস করেছে।

মে মাসে পাস হওয়া এই নতুন বিধিবদ্ধ আইনটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যকর করা শুরু হয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো চলন্ত যানবাহনে ধর্মপ্রচার এবং পণ্য বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, যেগুলোকে সরকারিভাবে 'বিরক্তির কারণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরণের কর্মকাণ্ড যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত করে এবং চালকের মনোযোগ নষ্ট করে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে। এখন থেকে কোনো ব্যক্তি গণপরিবহনে ধর্মপ্রচার করতে দেখলে তাকে সর্বোচ্চ আট মাসের কারাদণ্ড, ৫২ ডলার পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।

গসপেল লাইট চার্চের ৬১ বছর বয়সী পাস্তর বোয়াটেং বিসমার্ক জেমস ২০২৩ সাল থেকে বাণিজ্যিক বাসগুলোতে ধর্মপ্রচার করে আসছেন। তিনি জানান, অনেক মানুষ রবিবার গির্জায় যেতে পারেন না, তাই তাদের কাছে পরিত্রাণের বার্তা পৌঁছে দিতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি অসুস্থদের সুস্থ করার প্রচেষ্টাও চালান। তার জন্য এই ধর্মপ্রচার কেবল ধর্মীয় আহ্বান নয়, বরং আয়ের একটি বড় উৎস। তিনি জানান, তার ছোট সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার অর্ধেক খরচ এসেছে যাত্রীদের দেওয়া অনুদান থেকে। বোয়াটেং মনে করেন, ধর্মপ্রচারকদের জন্য এই আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়া উচিত।

এই নিয়ম নিয়ে যাত্রীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, চলন্ত বাসে উচ্চস্বরে কথা বলা বিরক্তিকর এবং অস্বাস্থ্যকর। চেরি লোকো নামের এক নারী জানান, তিনি শান্তিতে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন এবং অনেক সময় প্রচারকদের কথা বলার সময় লালা ছিটকানোয় তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। অন্যদিকে, বার্নিক নার্টে নামের এক যাত্রী মনে করেন, যাত্রীদের সম্মতির ভিত্তিতে ধর্মপ্রচারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, কারণ এটি মানসিক চাপে থাকা মানুষের মনে আশা জাগাতে সাহায্য করে।

ঘানার সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিলেও জননিরাপত্তার স্বার্থে তা সীমিত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২০১২ সালেও একবার এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছিল, তবে কঠোর প্রয়োগের অভাবে তা কার্যকর হয়নি। বর্তমান আইনটি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। তবে বাস স্টপেজ বা বাজারে মেগাফোন ব্যবহার করে ধর্মপ্রচার করা এই আইনের আওতায় পড়বে না। ইন্টারন্যাশনাল সেন্ট্রাল গসপেল চার্চের সিনিয়র পাস্তর রেভ ইনোচ পল হেইস মনে করেন, এই নিয়ম ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়। তিনি সহকর্মী পাস্তরদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিকল্প হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।