সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমের ওপর কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে না। রোববার সচিবালয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। এর আগে গত শুক্রবার তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, সংবাদমূলক স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছরের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। তিনি উল্লেখ করেন, আগের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের তথ্য জনসমক্ষে এনেছে। এমনকি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্যও মানুষকে বারবার চিন্তা করতে হতো, যা সংবাদমাধ্যমেও প্রযোজ্য ছিল। এই প্রতিকূল পরিবেশেও সংবাদকর্মীরা যতটুকু সম্ভব সত্য তুলে ধরেছেন।

গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সংবাদকর্মী এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর অবদানকে কোনোভাবেই কমিয়ে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সেদিনের আন্দোলনে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং জনমত গঠনে সাংবাদিকরা সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন তথ্য মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পরিণত না হয়।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাফল্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রেখে ইতিবাচক বিষয়গুলো প্রচারের দায়িত্ব যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও স্বীকার করেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।