বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরিচিত মহলের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রবণতা কি প্রকৃত পুষ্টির অভাব থেকে আসছে, নাকি কেবল আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ফল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন স্বাভাবিক খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না, তখনই কেবল সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ডা. শ্রীধর ভি জানান, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট অপরিহার্য হতে পারে। যেমন—কোনো রোগের কারণে শরীর পুষ্টি শোষণ করতে না পারলে, নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুষ্টির ঘাটতি হলে, কিংবা গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালীন সময়ে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হলে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া, ক্যানসার চিকিৎসা কিংবা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির পর শরীর সুস্থ করে তুলতে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয়, যা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

আধুনিক বাজারে সাপ্লিমেন্টের রূপ বদলেছে। এখন আর কেবল ট্যাবলেটের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ নেই; বরং গামি, ওয়েলনেস শট, কোলাজেন ড্রিংক, প্রোটিন পাউডার এবং ত্বকের জন্য বিশেষ প্যাচও পাওয়া যাচ্ছে। সাকরা ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের প্রধান ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ প্রাচী চন্দ্রের মতে, সাপ্লিমেন্টটি দেখতে কেমন বা কোন আকারে পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এতে থাকা পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ও মান। শিশুদের ক্ষেত্রে সিরাপের বদলে গামি একটি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে, তবে আকর্ষণীয় রূপ মানেই তা অধিক কার্যকর নয়। ডা. শ্রীধর ভি মনে করিয়ে দেন যে, প্যাকেটের গায়ের তথ্যের চেয়ে শরীর সেই উপাদানগুলো কতটা শোষণ করতে পারছে, সেটাই আসল বিবেচ্য বিষয়।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই। সাপ্লিমেন্ট কখনোই খাবারের জায়গা নিতে পারে না, বরং এটি কেবল ঘাটতি পূরণের সহায়ক। পুষ্টির সহজ উৎস হিসেবে ফর্টিফায়েড খাবারের কথা উল্লেখ করে প্রাচী চন্দ্র বলেন, আয়োডিন ও আয়রনযুক্ত লবণ কিংবা ভিটামিন এ ও ডি সমৃদ্ধ দুধ ও তেলের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।

সঠিক সাপ্লিমেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডা. শ্রীধর ভি-র মতে, পণ্য কেনার আগে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ, উপাদানের প্রকৃত পরিমাণ এবং অন্য কোনো ওষুধের সাথে এর প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। সব পণ্যের দাবি বিশ্বাস না করে লেবেলের উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রচারণার মোহে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ প্রাচী চন্দ্র।