শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে মূল ফটকে তালা লাগানো দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম। গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য কেন্দ্রটির সামনে পৌঁছে দেখেন, প্রধান ফটকে শিকল ঝুলছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কেউ চাবি খুলতে না আসায় তিনি ফটকের পাশের কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রের ভবনের কলাপসিবল গেটেও তালা দেখতে পান তিনি। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মুঠোফোনে কল করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পেছনের ফটক দিয়ে ভেতরে গিয়ে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম গতকাল আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। এরই অংশ হিসেবে তিনি গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রধান ফটকে তালা দেখতে পান। এ সময় ভেতরে থাকা এক কর্মী ফটকের কাছে এলে তাকে তালা খুলতে বলেন সংসদ সদস্য। ওই কর্মী জানান, তাঁর কাছে চাবি নেই। পরে সংসদ সদস্য ফটকের পাশের কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে যান। কেন্দ্রের ভবনের কলাপসিবল ফটকেও তালা দেখতে পান তিনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফটকের সামনে দাঁড়িয়েই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মুঠোফোনে কল করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন জানান, মূল ফটকের চাবি তাঁর কাছে ছিল, তবে ভুলবশত সেটি সঙ্গে আনা হয়নি। তিনি বলেন, ‘মেইন গেটের চাবি আমার কাছে ছিল। ভুল করে চাবিটি আনা হয়নি। সঙ্গে কেন্দ্রের পেছনের গেটের চাবি ছিল। সেটি খুলে আমি ভেতরে মিটিং করছিলাম। এ সময় সংসদ সদস্য এসে ফটক তালাবদ্ধ দেখে রাগ করেছেন।’
শ্রীপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানান, সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি কারণ ওই কেন্দ্রে শুধু শনিবার সেবা দেওয়া হয়। তবে সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের সময় কেন্দ্রের ভেতরে যারা ছিলেন তারা পাক্ষিক সভা করছিলেন বলে তাঁর দাবি।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিক্যাল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারী ভেতরে বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন। গাজীপুর ইউনিয়ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জরুরি।’ তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি উঠেছে।




