জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এবং পারিবারিক চরম অভাবের সঙ্গে লড়াই করে উচ্চশিক্ষায় সফল হয়েছেন মিজান মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজান এখন একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের অপেক্ষায়। শৈশবে মাকে এবং কৈশোরে বাবাকে হারানোর পর প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। সাত ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র তিনিই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা করতে সক্ষম হয়েছেন।

মিজানের বাবা খোরশেদ মিয়া রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। মিজান যখন একাদশ শ্রেণিতে পড়েন, তখন বাবার মৃত্যু হয়। এরপর শিক্ষকের সহায়তা এবং একটি বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তিনি পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি ২০২৩ সালে স্নাতক এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী হাবিবা বেগম সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বর্তমানে সংসারটি চলে স্ত্রীর আয়ে, যিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। মাসে মাত্র আট হাজার টাকা বেতনে কোনোমতে জীবন চলে আসলেও, হাবিবা বেগমের অসুস্থতার কারণে সেই আয়ের উৎসটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিজান জানান, তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু স্ত্রীর শরীর ভালো না থাকায় দীর্ঘকাল এই পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব নয়। এই সংকটময় অবস্থা থেকেই একটি স্থায়ী চাকরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি।

গত ৬ সেপ্টেম্বর মিজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের টেলিফোন অপারেটর পদে বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই আবেদনে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বর্তমান আর্থিক দুর্দশার কথা উল্লেখ করে তিনি এই অনুরোধ জানান। মিজানের স্পষ্ট কথা, তিনি কোনো করুণা চান না; বরং তাঁর মেধা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করে চাকরির সুযোগ দেওয়া হোক।

অন্যদিকে, মিজানের স্ত্রী হাবিবা বেগম স্বামীর চাকরির জন্য আরজি জানিয়েছেন, যাতে তাঁদের জীবন কিছুটা স্বস্তিতে কাটে। এই লড়াইয়ের কথা জানতে পেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন জানিয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করাটা একটি বড় অর্জন। তাই মিজানের নিয়োগের বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবেন।