কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার ধারণা এখনো চূড়ান্ত না করেই বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের কৌশল নিয়ে ভাবছেন। স্ট্রাইপের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠানগুলো শুরু হওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যে গড়ে সাতটি নতুন বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। ফরচুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রাইপের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বৃহত্তর চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক প্রধান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরিতা সিং বলেছেন, এশিয়া-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা করার দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দেশের বাইরে গ্রাহক খুঁজে বের করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকে এখন বড় ধরনের জোর দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে এশিয়ার বেশিরভাগ কোম্পানি আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি 'চিন্তাশীল কিন্তু ধীর' পদ্ধতি অনুসরণ করত। সরিতা সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে স্থানীয় বাজারের জন্য পণ্য তৈরি করত, তারপর ধীরে ধীরে দেশভিত্তিক সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যাংকিং সম্পর্ক গড়ে তুলত। তবে এখন এআই-নেটিভ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সফটওয়্যার-অ্যাজ-এ-সার্ভিস (সাস) প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক দ্রুত স্কেল ও অর্থ উপার্জন করছে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণা বলছে, স্ট্রাইপ প্ল্যাটফর্মে শীর্ষ ১০০টি এআই কোম্পানির বার্ষিক আয় ১০ লাখ ডলার ছাড়াতে গড় সময় লেগেছে মাত্র ১১.৫ মাস, যা সাবস্ক্রিপশন বুমের সময় দ্রুত বর্ধনশীল সাস কোম্পানিগুলোর চেয়ে চার মাস এগিয়ে।
তবে এশিয়ার উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও খণ্ডিত পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোর একটি পরিচালনা করা। সিং উল্লেখ করেছেন, এ অঞ্চলে কোনো একক কার্ডভিত্তিক বাজার নেই; বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের কেনাকাটা ও লেনদেনের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। এই সমস্যা মোকাবিলায় স্ট্রাইপ সম্প্রতি বেশ কয়েকটি স্থানীয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং পে, মালয়েশিয়ার টাচ 'এন গো, সিঙ্গাপুরের শপিপে, ফিলিপাইনের জিক্যাশ এবং থাইল্যান্ডের ট্রুমনি। এই অংশীদারিত্বের ফলে স্ট্রাইপের প্ল্যাটফর্মে থাকা ব্যবসায়ীরা এসব ছোট পেমেন্ট প্রদানকারীর মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন গ্রহণ করতে পারবেন। সিংয়ের মতে, এই পেমেন্ট কোম্পানিগুলো নিজেদের ক্ষেত্রে সফল, কিন্তু স্ট্রাইপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে তারা একটি বৃহত্তর বিতরণ নেটওয়ার্ক পাচ্ছে।
অন্যান্য পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মতো স্ট্রাইপও এখন উদীয়মান 'এজেন্টিক ইকোনমি'র দিকে নজর দিচ্ছে। এতে এআই এজেন্টরা মানুষের পক্ষে স্বাধীন অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। গত ডিসেম্বরে স্ট্রাইপ 'এজেন্টিক কমার্স স্যুট' চালু করেছে, যা শেয়ার্ড পেমেন্ট টোকেন ব্যবহার করে এআই এজেন্টদের ক্রেতার তথ্য নিরাপদে বিক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। ফ্যাশন ব্র্যান্ড কোচ ও কেট স্পেড এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইটসি ও হালারা এই ব্যবস্থার প্রথম দিকের ব্যবহারকারী। ভিসা ও মাস্টারকার্ডও এজেন্টিক কমার্সে বিনিয়োগ করছে। ভিসা গত এপ্রিলে 'ইন্টেলিজেন্ট কমার্স' প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, আর মাস্টারকার্ড চলতি বছরের জুনে 'এজেন্ট পে ফর মেশিনস' চালু করেছে। তবে সিং স্বীকার করেছেন, বৈশ্বিক এজেন্টিক অর্থনীতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। স্ট্রাইপ ব্যবসায়ীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে চায় যাতে ভবিষ্যতে এজেন্টিক কমার্সে রূপান্তরের সময় তাদের প্রযুক্তি নতুন করে তৈরি করতে না হয়।




