খাদ্য সংকট নিরসনে এক অভিনব পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্লাস্টিকের বোতলকে কাজে লাগিয়ে এখন তৈরি করা সম্ভব কুকিজ — যা একদিন নাসার নভোচারীদের মহাকাশে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অণুজীবের সাহায্যে প্লাস্টিক ভেঙে ফেলা যায় এবং বেকারের ঈস্ট ব্যবহার করে তাতে ভ্যানিলার স্বাদ আনা সম্ভব। ফলে বর্জ্য পদার্থই হয়ে উঠতে পারে খাদ্যের উৎস।

এই গবেষণা পদ্ধতিটি মূলত দুইটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট ধরনের অণুজীব প্লাস্টিকের দীর্ঘ পলিমার শৃঙ্খল ভেঙে ছোট ছোট অণুতে পরিণত করে। দ্বিতীয় ধাপে সেই অণুগুলোকে কাজে লাগিয়ে বেকারের ঈস্টের মাধ্যমে ভ্যানিলা ফ্লেভার তৈরি করা হয়। এরপর সেই উপাদান ব্যবহার করে কুকিজের মতো খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়।

বিশ্বজুড়ে যখন খাদ্য সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে, তখন এই প্রযুক্তি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। শুধু স্থলভাগেই নয়, দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের জন্য টেকসই খাদ্যের উৎস তৈরি করাও এই গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য। নাসা ইতিমধ্যে এই ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে, কারণ মহাকাশে সীমিত সম্পদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্জ্য প্লাস্টিক থেকে খাদ্য উৎপাদনের এই প্রক্রিয়া পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একদিকে যেমন প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনি খাদ্যের নতুন উৎস তৈরি হবে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করতে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে তারা জানিয়েছেন।

যদিও বর্তমানে এই প্রযুক্তি গবেষণাগারের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ, তবে ভবিষ্যতে এটি ব্যাপক পরিসরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। খাদ্য ও প্লাস্টিক দূষণ — এই দুই সমস্যার সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে পারে এই উদ্ভাবন, যা মানবজাতির জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।