বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর মধ্যে প্রযুক্তি খাতের বাইরের ৪৯৩টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখনো কোনো দৃশ্যমান আর্থিক মুনাফা বয়ে আনতে পারেনি। অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরস্টেন স্লোকের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তথাকথিত 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' বা সাতটি প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রতি আয় এবং মুনাফার মার্জিন বাড়লেও বাকি ৪৯৩টি কোম্পানির ক্ষেত্রে তা স্থবির হয়ে আছে। উল্টো প্রযুক্তি খাতের বাইরের কোম্পানিগুলোর জন্য এআই-তে বিনিয়োগ এখন কেবল একটি বাড়তি খরচ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিক মুনাফাকে কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে, এআই অবকাঠামো বিক্রেতারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের আয় ১০৩ শতাংশ এবং অ্যাজ্যুর-এর আয় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল চালিকাশক্তি ছিল এআই-এর চাহিদা। অন্যদিকে, যারা এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন, তারা মুনাফার বদলে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-এর সুবিধা এখন কোম্পানিগুলোর বদলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বেশি দৃশ্যমান। সেন্ট লুইস ফেড এবং সেন্সাস ব্যুরোর জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী তাদের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে সময় বাঁচলেও তা পুরো প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় যোগ হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো কোম্পানিগুলোর পুরনো অপারেটিং মডেল। কাজ করার ধরন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং অনুমোদনের পদ্ধতিগুলো এখনো মানুষের গতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা এআই-এর দ্রুত গতির আউটপুটকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে তিনটি প্রধান পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, এআই উদ্যোগটি কেবল আইটি বিভাগের হাতে না ছেড়ে সরাসরি সিইও-র তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে, যাতে কাজের নকশা পরিবর্তনের মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত কার্যকর হয়। দ্বিতীয়ত, কেবল কৌতূহলবশত নয়, বরং যে কাজগুলো সরাসরি আয় বাড়ানো বা ঝুঁকি কমানোর সাথে যুক্ত, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজের পুরো প্রক্রিয়াটি পুনরায় সাজাতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি কাজের জন্য সবসময় সবচেয়ে দামি বা আধুনিক মডেলের প্রয়োজন নেই; রুটিন কাজের জন্য সাধারণ অটোমেশন ব্যবহার করা সাশ্রয়ী হতে পারে।
অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করছে কর্মী ছাঁটাই করলেই এআই-এর লাভ চলে আসবে, যা একটি ভুল ধারণা। উদাহরণ হিসেবে বারক্লেজ ব্যাংকের ৫,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেটিকে বাজার এআই-এর সাফল্য হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত পরিবর্তনের বিকল্প নয়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যতক্ষণ না কোম্পানিগুলো তাদের কাজের মডেল পরিবর্তন করছে এবং প্রতিটি আউটপুটের সঠিক খরচ ও লাভ পরিমাপ করতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপক আর্থিক लाभ আসা সম্ভব নয়। এই আমূল পরিবর্তন এবং পরিমাপের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে, তাই ২০২৭ সালের আগে অধিকাংশ কোম্পানির জন্য এআই-এর সুফল বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না।




