সোমবার দুপুরের দিকে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম দুই শতাংশের বেশি কমে প্রায় ২১০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এটি ছিল কোম্পানিটির জন্য টানা সপ্তম দিনের পতনের ধারাবাহিকতা। বুধবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর প্রকাশিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ এই অব্যাহত পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের এই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বুধবার তাদের ত্রৈমাসিক আয়ের ফলাফল ঘোষণা করবে। বাজারের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য বড় এআই প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে মেটা তাদের ত্রৈমাসিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এনভিডিয়ার প্রতিবেদন কী বার্তা নিয়ে আসবে, তা নিয়ে বাজারে তীব্র জল্পনা চলছে।

সপ্তাহান্তে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুসারে, এনভিডিয়া তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় গ্রাহকদের জানিয়েছে যে মেমরির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আগামী বছরে এআই চিপসমৃদ্ধ সার্ভারের মূল্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির খবর বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে, কারণ গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই বিশাল বিনিয়োগের চাপ সামলাচ্ছেন।

এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর খাতজুড়ে সোমবার একটি ব্যাপক পতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এএমডি, টিএসএমসি এবং ব্রডকম—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও একই দিনে কমেছে। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা খাতের সার্বিক দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। ফলে এনভিডিয়ার পতন কেবল একক প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক নয়, বরং একটি বৃহত্তর বাজারগত প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

কোম্পানিটির সাম্প্রতিক পতনের পেছনে আরও কয়েকটি বিষয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কিছু সমালোচক এনভিডিয়ার ‘চক্রাকার অর্থায়ন’ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানে কোম্পানিটি ইকুইটি স্টেক গ্রহণ করেছে, যারা একই সঙ্গে এনভিডিয়ার বড় গ্রাহক। এই ধরনের লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে বাজারে আলোচনা তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিশাল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের বিরোধিতা ভবিষ্যতের চাহিদা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

সোমবার বেলা প্রায় একটার দিকে এনভিডিয়ার শেয়ারের লেনদেন মূল্য ছিল ২১০ ডলারের সামান্য নিচে। দিনের পতনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ। গত সাত দিনের ধারাবাহিক পতনের ফলে মোট হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি উদ্বেগকে আরও ঘনীভূত করেছে।

তবে ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এখনও এনভিডিয়ার প্রতি দৃঢ় আশাবাদী। বাজার মূলধনের হিসেবে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্য নিয়ে কোম্পানিটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের অবস্থানে রয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শেয়ারের দাম ১১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, সাম্প্রতিক পতনের পরও। ক্যান্টর ফিটজেরাল্ডের একজন বিশ্লেষক সোমবার প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, শেয়ারের দাম খুব দ্রুত আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তিনি ৩৫০ ডলারের লক্ষ্যমূল্য নির্ধারণ করেছেন, যা সোমবারের লেনদেন দামের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি। মার্কেটওয়াচের প্রতিবেদনে এই বিশ্লেষণের কথা প্রথম প্রকাশিত হয়।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াংয়ের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ সোমবারের হিসাব অনুযায়ী ১৮১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের অষ্টম ধনী ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান করছেন। এনভিডিয়ার মোট শেয়ারের প্রায় ৩ শতাংশ তার মালিকানায় রয়েছে। সোমবারের শেয়ারের পতনের ফলে তার ব্যক্তিগত সম্পদ প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে, যা বাজারের ওঠানামার সঙ্গে উচ্চপদস্থ নির্বাহীদের সম্পদের সরাসরি সংযোগের একটি উদাহরণ।