যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে পণ্যের দাম নির্ধারণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে খুচরা বিক্রেতারা এখন প্রতিটি গ্রাহকের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছে। এ অবস্থায় সংস্থাটি 'পার্সোনালাইজড প্রাইসিং' বা ব্যক্তিনির্ভর দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে, যেখানে গ্রাহকের তথ্য ব্যবহার করে কোনো কোম্পানি কত টাকা নিতে চায় তা নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণের বিষয়টি না জানায়, তবে তা এফটিসি আইনের অধীনে প্রতারণামূলক বা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এফটিসি-র চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, গ্রাহকরা যখন কোনো পণ্যের দাম দেখেন, তারা আশা করেন সেটি সবার জন্য সমান হবে। কিন্তু বিক্রেতা যদি তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করে কত টাকা নেওয়া যায়, তা প্রতারণার শামিল। তিনি আরও বলেন, সব ক্ষেত্রে ব্যক্তিনির্ভর দাম নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনি ক্ষমতা এফটিসি-র নেই, তবে যেসব প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে গ্রাহকদের অবহিত করবে না, তারা আইন লঙ্ঘন করবে।
এই প্রস্তাবের ওপর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত দুই বছর ধরে তথাকথিত 'সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং' বা নজরদারির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে আসছিল সংস্থাটি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দাম নির্ধারণ প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত আটটি কোম্পানিকে গ্রাহকের অবস্থান, জনসংখ্যাগত তথ্য, ক্রেডিট ইতিহাস এবং ব্রাউজিং বা কেনাকাটার ইতিহাস কীভাবে ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছিল এফটিসি। তৎকালীন এফটিসি চেয়ার লিনা এম. খান তখন বলেছিলেন, ব্যবসায়ীরা গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য ব্যবহার করে নজরদারির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করছে কি না তা জানার অধিকার আমেরিকানদের রয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এফটিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, দাম নির্ধারণকারী মধ্যস্বত্বভোগীরা গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, ব্রাউজার ইতিহাস, কেনাকাটার আচরণ এমনকি মাউসের নড়াচড়ার তথ্যও ব্যবহার করতে পারে। তদন্তে দেখা গেছে, এই কোম্পানিগুলো কমপক্ষে ২৫০টি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেছে, যার মধ্যে মুদি খুচরা বিক্রেতারাও রয়েছে।
এদিকে, এফটিসি সম্প্রতি গতিশীল মূল্য নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা করছে। সরবরাহ ও চাহিদা, ইনভেন্টরি এবং প্রতিযোগীদের দামের ভিত্তিতে দাম পরিবর্তনের বিষয়টি তারা পরীক্ষা করেছে। এফটিসি-র এক গবেষণা নথিতে বলা হয়েছে, ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক শেলফ লেবেল ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলো খুব দ্রুত দাম পরিবর্তন করতে পারে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, ভোক্তারা আশা করেন পণ্যের দাম সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে পরিবর্তিত হবে, তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাস বা কেনাকাটার ইতিহাসের ভিত্তিতে নয়। কোনো খুচরা বিক্রেতা যদি দাম স্থির থাকার ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়, তাহলে তারা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকদের ওপর চাপ বাড়ায় এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে শাকসবজি ও ফলের দাম আগের বছরের তুলনায় ৫.১ শতাংশ এবং পানীয়ের দাম ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো খাবারের পেছনে গড়ে ৫,৪৯৮ ডলার খরচ করেছে, যা তাদের কর-পূর্ব আয়ের ৩৩ শতাংশের সমান। একই সময়ে মধ্য আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের মাত্র ১২.২ শতাংশ খাবারে ব্যয় করেছে।




