সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর ব্লু টিক ভেরিফিকেশন সিস্টেম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরোপিত ১২০ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ড) জরিমানা বাতিলের আইনি লড়াইয়ে ইলন মাস্কের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন সরকার। এই জরিমানা খণ্ডানোর জন্য মাস্ক যে আইনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন, তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন ইউরোপীয় কমিশন দাবি করে যে এক্স তাদের ব্যবহারকারীদের প্রতারিত করছে। কমিশনের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ব্লু টিক বা ভেরিফাইড চিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে এক্স অ্যাকাউন্টগুলোর প্রকৃত মালিকানা সঠিকভাবে যাচাই করছে না, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে। তবে মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুমেট বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইউরোপীয় কমিশন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেছে, যাতে মাস্ক এবং এক্স-এর মামলাটি খারিজ করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা হয়েছে। আবেদনের যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, ইইউ আদালতের সংবিধির একটি ধারা অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি প্রমাণ করতে পারে যে মামলার ফলাফলের সাথে তাদের স্বার্থ জড়িত, তবে তারা ওই বিবাদে হস্তক্ষেপ করতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের territorial jurisdiction বা আঞ্চলিক এখতিয়ারের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট স্বার্থ রয়েছে। এছাড়া, মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সদর দপ্তর থাকা ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তাও নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেনিয়ার শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা আদালতে তাদের অবস্থানের পক্ষে শক্ত যুক্তি দিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA) লঙ্ঘনের কারণে তাদের কাছে একটি শক্তিশালী মামলা রয়েছে। ব্লু টিক ছাড়াও, বিজ্ঞাপনের স্বচ্ছতার অভাব এবং গবেষকদের পাবলিক ডেটা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ইইউ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। টেক সার্বভৌমত্বের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হেননা ভির্কুনেন জানান, ব্যবহারকারীদের অধিকার খর্ব করা এবং দায়বদ্ধতা এড়িয়ে চলার জন্য এক্স-কে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (FCC) ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুবিওর মতে, এটি কেবল এক্স-এর ওপর হামলা নয়, বরং বিদেশি সরকারের মাধ্যমে সমস্ত মার্কিন টেক প্ল্যাটফর্ম এবং মার্কিন জনগণের ওপর আক্রমণ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অনলাইনে মার্কিনিদের সেন্সর করার দিন শেষ হয়ে গেছে। ইলন মাস্কও এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য নির্দিষ্ট কোনো জাতীয়তাকে লক্ষ্য করার কথা অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে এবং ডিজিটাল ও গণতান্ত্রিক মান রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের অধীনে এটিই কমিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক অ-পালন সিদ্ধান্ত। এছাড়া, এক্স-এর এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট 'গ্রক' (Grok) ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের যৌন উত্তেজক ছবি তৈরির অভিযোগের বিষয়েও ইইউ তদন্ত চালাচ্ছে।




