মহাকাশের চরম প্রতিকূল পরিবেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রসেসরের পারফরম্যান্স কেমন হয়, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। গুগলের এই উদ্যোগটি তাদের পরীক্ষামূলক ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’-এর একটি অংশ, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ভার্জ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হবে। এই স্যাটেলাইটে গুগলের নিজস্ব প্রযুক্তির ‘টেনসর প্রসেসিং ইউনিট’ বা টিপিইউ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি নিম্ন ভূ-কক্ষপথে অবস্থান করে সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মহাকাশের তীব্র বিকিরণ, প্রচণ্ড চাপের পাশাপাশি তাপমাত্রার চরম ওঠানামা গুগলের টিপিইউ চিপগুলো কতটুকু সহ্য করতে পারে তা পরিমাপ করা। দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশে চিপ-ভিত্তিক স্যাটেলাইটের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক বা কনস্টেলেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের, আর বর্তমান পদক্ষেপটি সেই লক্ষ্যেই একটি প্রাথমিক ধাপ। এর আগে জেফ বেজোস, ইলন মাস্ক এবং গুগলের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী এরিক শ্মিড পৃথিবীতে ডেটা সেন্টারের বিকল্প হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

গুগলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর আরও দুটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে। যদিও প্রাথমিক পরীক্ষামূলক ধাপে দেখা গেছে যে তাদের টিপিইউ চিপগুলো উচ্চমাত্রার জি-ফোর্স এবং বিকিরণ সহ্য করতে সক্ষম, তবুও কোম্পানিটি মনে করে যে প্রকৃত পরিবেশের অভিজ্ঞতা কেবল মহাকাশে গিয়েই পাওয়া সম্ভব। তাই কক্ষপথে থাকা অবস্থায় হিট পাইপ ও রেডিয়েটর সমৃদ্ধ একটি বিশেষ কুলিং সিস্টেম বা শীতলীকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হবে।

‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র ডিরেক্টর ট্র্যাভিস বেলস জানিয়েছেন, এই চিপগুলো অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়ার আগে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সচল রাখা যাবে, এরপর শীতল করার জন্য সেগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্কেলযোগ্য এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য মহাকাশকে উপযোগী করে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজন সুশৃঙ্খল প্রকৌশলগত পদক্ষেপ। প্রথম এই উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য হলো কোন পদ্ধতিগুলো কার্যকর হচ্ছে তা দেখা এবং বিদ্যমান ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের মিশনে তা সংশোধন করা।