২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া গত বুধবার থেকে চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। একজন শিক্ষার্থী তার যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে আবেদন করতে পারবে। প্রতিটি আবেদনের জন্য ২২০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে।

আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন— এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের বছর, নিজের সচল মোবাইল নম্বর, পছন্দের কলেজগুলোর তালিকা এবং যে বিভাগে ভর্তি হতে চান তার তথ্য। আবেদনপত্র সাবমিট করার আগে ব্যক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার কোনো ভর্তি পরীক্ষা বা বাছাই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই সরাসরি ভর্তি করা হবে। তবে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ আসন মেধা তালিকার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ৭ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত।

কোটার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীকে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হতে হবে। ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে এবং মূল কপি দেখাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করে ভর্তি সম্পন্ন করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধার নাতি বা নাতনি হলে সে এই কোটায় আবেদনের যোগ্য নয়। এমন আবেদন সিলেকশন পেলেও ভর্তির ক্ষেত্রে বাতিল বলে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে, শিক্ষা কোটা (ইকিউ-১ ও ইকিউ-২) আবেদনের জন্যও নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। ইকিউ-১ কোটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে, ইকিউ-২ কোটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৮টি দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি স্কুল, কলেজ, স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরাও এই কোটার সুবিধা পাবেন। এই কোটা গুলোতে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেউ আবেদন করলে, সিলেকশন পাওয়ার পরও তার ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে।

কোটার আসন খালি থাকলে সেগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না পাওয়া গেলে সেই আসন খালি রাখা যাবে না, বরং মেধা তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।

মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে। বিভিন্ন বছরের পরীক্ষার ফলও সমতুল্য করে বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর থাকলে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। এরপরও সমানতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর নিষ্পত্তির জন্য ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর পরপর যাচাই করা হবে। এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি: ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। একই সময়ে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিতদের ভর্তি নিশ্চয়তার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়তা না করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর এবং সবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।