২০২২ সালের শেষভাগে চ্যাটজিপিটির আত্মপ্রকাশের পর থেকে প্রযুক্তি শিল্পের প্রাথমিক স্তরের চাকরির বাজারে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর দুটি গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, কম্পিউটার সায়েন্স এবং এআই-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণরা এখন আর তাদের কাঙ্ক্ষিত হোয়াইট কলার পেশায় ঢুকতে পারছেন না। এর পরিবর্তে তারা রেস্তোরাঁ বা রিটেইল শপের মতো নিম্ন আয়ের পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেখানে ২২ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের নিয়োগ দেওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমেছে। অন্যদিকে, এআই-এর প্রভাব কম এমন খাতের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থিতিশীল রয়েছে। গবেষণার সহ-লেখক লি টাকারের মতে, চ্যাটজিপিটি মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি এআই-নির্ভর শিল্পের শুরুর দিকের কর্মীদের কর্মসংস্থান ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বেকারত্বের প্রধান কারণ হলো নতুন নিয়োগের অভাব, বিদ্যমান কর্মীদের চাকরি হারানো নয়। বিশেষ করে সফটওয়্যার এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের মতো পেশাগুলো, যা মূলত কম্পিউটার সায়েন্স গ্রাজুয়েটদের জন্য তৈরি, সেখানেই এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।
টাকারের দ্বিতীয় গবেষণাপত্র অনুযায়ী, এআই-নির্ভর বিষয়ের স্নাতকদের ক্ষেত্রে স্নাতক শেষ করার এক ত্রৈমাসিকের মাথায় চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ কমেছে। একইসাথে তাদের প্রারম্ভিক আয় ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাধারণত তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে এমন আয়ের পতন ঘটে, অথচ বর্তমান শ্রমবাজারের অন্যান্য খাত স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও এই বিশেষ শ্রেণির গ্রাজুয়েটরা এই ধাক্কা অনুভব করছেন। আয়ের এই ঘাটতির অর্ধেক এসেছে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কম বেতন দেওয়ার কারণে এবং বাকি অর্ধেক এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিম্ন মজুরির খাতে চলে যাওয়ার ফলে। সহজ কথায়, একজন কম্পিউটার সায়েন্স গ্রাজুয়েট যখন আগে সহজেই পাওয়া যেত এমন এন্ট্রি-লেভেল সফটওয়্যার চাকরির খোঁজ করেন, তখন সেই শূন্যপদটি আর খুঁজে পান না; ফলে জীবনধারণের তাগিদে তাকে সুপারশপে ক্যাশিয়ার বা রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কাজ নিতে হচ্ছে।
মজার বিষয় হলো, চাকরির বাজারের এই পরিবর্তন দ্রুত হলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া আসতে সময় লেগেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স এবং প্রোগ্রামিং কোর্সে ভর্তির হার ১০ শতাংশের বেশি কমেছে বলে গোল্ডম্যান স্যাকস-এর এক বিশ্লেষণে জানা গেছে। গ্যালপ এবং লুমিনা ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এআই-এর কারণে তাদের মেজর বা প্রধান বিষয় পরিবর্তনের কথা ভেবেছেন। অথচ সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, চ্যাটজিপিটি আসার কয়েক মাস পরেই নিয়োগের বাজারে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীরা তিন বছর পর বুঝতে পেরেছে।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্কের একটি ট্র্যাকার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সাম্প্রতিক স্নাতকপ্রাপ্তদের মধ্যে অনুত্পাদনশীল কর্মসংস্থানের (underemployment) হার দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার ৫.৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড় হারের চেয়ে বেশি। এছাড়া স্ট্রাডা এবং বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী পড়াশোনা শেষ করার এক বছরের মধ্যেই রিটেইল, ফুড সার্ভিস বা অফিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো এমন কাজে নিযুক্ত হন, যার জন্য কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ মানুষ এক দশক পর এবং সেই নিম্নমানের কাজগুলোতেই থেকে যান।




