কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির লাগামহীন উন্নয়ন মানব সভ্যতার জন্য চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ক্রিস্টেন ওয়াকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সঠিক সুরক্ষা ও নজরদারির অভাব থাকলে এই প্রযুক্তির পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ, যা এমনকি একশ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিল গেটসের মতে, এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কেবল সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের ওপর ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রাজনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুরক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে আলোচনায় বসতে হবে।

শিল্প খাতের ব্যবসায়িক খরচের কথা উল্লেখ করে গেটস জানান, নজরদারি ব্যবস্থা চালু করলে কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বা 'ওভারহেড' সামান্য বাড়লেও, তা তাদের কাজের গতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে এআই ব্যবহৃত হতে পারে যদি এটি ভুল হাতে পড়ে। উল্লেখ্য, আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রায় ৬ হাজার শব্দের একটি দীর্ঘ নিবন্ধেও তিনি এআই-এর ঝুঁকিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তিবিদরাও এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার এই দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআই-এর অপব্যবহারের ফলে জৈব অস্ত্র তৈরি বা পারমাণবিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তির বিতর্কিত ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ‘নো অ্যাজিউর ফর আপারথাইড’ নামক সংগঠনের সদস্যরা দাবি করেছেন, মাইক্রোসফটের এআই টুলগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দ্বারা গাজায় এবং মার্কিন বাহিনীর দ্বারা ইরানে প্রাণহানির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের নজরদারি ও নির্বাসনের প্রক্রিয়ায় মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিল গেটস জানান, তিনি সামাজিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করেন না। সঞ্চালকের প্রশ্নে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, তিনি কখনো এআই-এর কাছে জানতে চাননি যে তিনি একজন ভালো মানুষ কি না বা তাকে কেউ পছন্দ করে কি না। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তিনি এআই-এর সঙ্গে কোনো সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলেননি।

সাক্ষাৎকারটির পাশাপাশি বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা উঠে এসেছে। জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে গেটসের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা মেলেনি, তবে গেটস ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তাদের মধ্যে প্রায় ৩০টি বৈঠক হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।