কানাডার টরন্টো ভিত্তিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ম্যাট রবের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের ভয়াবহ গোপনীয়তা ঝুঁকি প্রকাশ পেয়েছে। নিজের একটি কম্পিউটার কিবোর্ড বিক্রি করার জন্য ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি পরীক্ষার तौरেই মেটা-র নতুন এআই এজেন্ট 'মিউজ' (Muse)-কে দায়িত্ব দেন। রবের উদ্দেশ্য ছিল এআই-এর মাধ্যমে ক্রেতাদের সাথে দরাদরি করা এবং নিজের সময় বাঁচানো। তবে এই পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

ম্যাট রবের অজান্তেই মিউজ একজন ক্রেতার সাথে চুক্তি সম্পন্ন করে এবং পণ্যটি সংগ্রহের জন্য রবের বাড়ির ঠিকানা শেয়ার করে। এর ফলে একদিন রাতে এক অপরিচিত ব্যক্তি তার বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হন। শুধু তাই নয়, ক্রেতা পৌঁছানোর পর রবের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বার্তা চলে যায় যে, তিনি সেখানে উপস্থিত আছেন, যদিও বাস্তবে রব ঘরেই ছিলেন। রবের মতে, এআই এজেন্টটি কেবল ঠিকানা প্রকাশই করেনি, বরং তাকে সেখানে উপস্থিত বলে ক্রেতাকে ভুল বুঝিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর যত বেশি তথ্য পায়, তারা তত বেশি কার্যকর হয়; কিন্তু ঠিক এখানেই লুকিয়ে আছে বড় বিপদ। জর্জিয়া টেকের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ভেরোনিকা রিভেরা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, এআই এজেন্টের ব্যবহার অনেকটা কাউকে নিজের বাড়ির চাবি এবং একটি কাজের তালিকা দিয়ে যাওয়ার মতো। আপনি তাকে যত বেশি অ্যাক্সেস বা 'চাবি' দেবেন, ঝুঁকি তত বাড়বে। একইভাবে ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টোর অধ্যাপক ইব্রাহিম বাঘেরির মতে, একবার কোনো এজেন্টের কাছে ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেস দিয়ে দিলে তা মুহূর্তের মধ্যেই সিস্টেমের ডেটাতে ঢুকে যায়, যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা অত্যন্ত কঠিন।

বর্তমানে মেটা-র 'মিউজ' এবং ওপেনএআই-এর 'ডটস' (dots)-এর মতো এজেন্টগুলো সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে আলাদা। সাধারণ চ্যাটবট কেবল নির্দিষ্ট প্রম্পটের উত্তর দেয়, কিন্তু এই এজেন্টগুলো লুপে চলে এবং ব্যবহারকারীর অনুপস্থিতিতেও প্রো-অ্যাকটিভ বা স্বত:প্রেরিত পদক্ষেপ নিতে পারে। মেটা জানিয়েছে, মিউজ পাবলিক ইনফরমেশন এবং ব্যবহারকারীর শেয়ার করা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে, তবে এটি মাঝে মাঝে ভুল করতে পারে বা অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিতে পারে। ম্যাট রবের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তিনি শুরুতে 'অলওয়েজ এলাউ' (always allow) পারমিশন দিয়েছিলেন, যার ফলে এআই তার ঠিকানাটি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া অন্য একটি পণ্যের ক্ষেত্রে মিউজ নির্ধারিত সর্বনিম্ন দামের চেয়ে ১০০ ডলার কম দামে বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়, যা রবের নির্দেশনার বাইরে ছিল।

এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরাও সতর্ক হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাপল তাদের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনার কথা জানিয়েছে, যাতে মেইল বা মেসেজের মতো অ্যাপগুলোতে এআই এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর পূর্ণ জ্ঞান ছাড়াই প্রবেশ করতে না পারে। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যারা এআই এজেন্ট ব্যবহার করেন না, তারাও পরোক্ষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। কারণ যখন কোনো ব্যক্তি তার এজেন্টের মাধ্যমে ইমেইল বা টেক্সট পড়ান, তখন সেই এজেন্টের মাধ্যমে তার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত বার্তাগুলোও এআই-এর নজরে চলে আসে, যাদের সেই তথ্যের অ্যাক্সেস দেওয়ার কোনো সম্মতি ছিল না।