টেস্ট ক্রিকেটে লাল বলের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পাশাপাশি দিন-রাতের ম্যাচে গোলাপি বলের প্রচলন এখন বেশ পরিচিত। তবে সম্প্রতি দিনের বেলার টেস্টেও গোলাপি বল ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম টেস্টে এই আলোচনা তীব্র হয়ে ওঠে। ওই ম্যাচে প্রকৃতির প্রতিকূলতার কারণে আলোর স্বল্পতায় বারবার খেলা বন্ধ করতে হয়েছে, যার ফলে ক্রিকেটার ও দর্শক উভয়েই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।

আইসিসির নতুন নিয়মানুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া প্লেয়িং কন্ডিশনে দিনের বেলার টেস্টেও গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য শর্ত হলো, ম্যাচ শুরুর আগেই উভয় দলকে একমত হতে হবে এবং পুরো ম্যাচটি ওই বল দিয়েই খেলতে হবে। মাঝপথে বল পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। ডারবান টেস্টে এই নিয়ম কার্যকর করার সুযোগ থাকলেও কোনো দলই তাতে রাজি হয়নি। ফলে প্রথম দিন নির্ধারিত ৯০ ওভারের বদলে মাত্র ৬৫ ওভার খেলা সম্ভব হয় এবং দ্বিতীয় দিনেও আলোর অভাবে খেলা দ্রুত শেষ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয়লাভ করলেও, আলোচনা জমেছে বলের রঙ নিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড গোলাপি বল ব্যবহারের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, লাল বলের বদলে গোলাপি বল ব্যবহার করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ম্যাকডোনাল্ডের সংশয় মূলত বলের আচরণ নিয়ে। তিনি মনে করেন, ফ্লাডলাইটের আলোতে এই বল কেমন আচরণ করবে এবং বলটি পুরোনো হলে তার প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়। তবে তিনি অন্য দলগুলোর সিদ্ধান্তকে বাধা দেননি, যদিও নিজের দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বলের রঙের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে কতক্ষণ খেলা সম্ভব হচ্ছে। পোলক মনে করেন, গোলাপি বলের প্রতি ক্রিকেট বিশ্বে এক ধরণের অযৌক্তিক ভয় কাজ করে। তিনি যুক্তি দেন যে, গোলাপি বলে কোনো ব্যাটিং বিপর্যয় হলে তাকে বলের দোষ দেওয়া হয়, আবার রান করলে বলা হয় বল নরম হয়ে গেছে; অথচ লাল বলের ক্ষেত্রে একই বিষয়কে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। পোলকের দাবি, ডারবানে গোলাপি বল ব্যবহার করা হলে আরও প্রায় ৪৫ ওভার খেলা যেত, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি ক্রিকেটারদের এই নতুন বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার এবং ভয় কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

মূলত এই বিতর্কটি টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সংঘাতের প্রতিফলন। একদিকে যেমন ম্যাকডোনাল্ডের মতো কোচরা ঝুঁকি এড়াতে চান, অন্যদিকে পোলকের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আলোর স্বল্পতায় ক্রিকেট বন্ধ রাখার চেয়ে বিকল্প বল ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর। আগামী ১৮ অক্টোবর গেবেরহায় শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্ট এবং পরবর্তীতে কেপটাউন টেস্টেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী পুনরায় এই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তবে দুই দলের সম্মতির অভাব থাকলে গোলাপি বলের ব্যবহার কেবল আলোচনায়ই সীমাবদ্ধ থাকবে।