রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংঘটিত এক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অপরাধী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দেশে তৈরি একটি রিভলবার, চারটি গুলি এবং লুণ্ঠিত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ — মোট ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা — উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন তানভীর আবেদীন ওরফে জুঁই, মো. মজিবুর রহমান, মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির, মো. সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন এবং সজল চৌধুরী। ডিএমপি জানিয়েছে, গত ৩০ আগস্ট দুপুরে ধানমন্ডির ১২/এ নম্বর সড়কের ডিঙ্গী রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে যায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল।

টাকা নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন ও ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় তানভীর আবেদীন এবং মজিবুর রহমানকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চারটি গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলবার উদ্ধার হয়। মজিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া সূত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই অভিযানগুলোতে চক্রটির আরও পাঁচ সদস্য — সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন ও সজল চৌধুরী — গ্রেপ্তার হয়। তাঁদের মধ্যে সোলায়মান মৃধাকে গতকাল শনিবার আটক করা হয়। জাকারিয়া হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের ধরতে এবং লুণ্ঠিত বাকি অর্থ উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।