ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বিশেষ অভিযানে ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সোনা জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একটি যৌথ দল। ধরা পড়া সোনাগুলো ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন কর্মীর পরিহিত বেল্টের ভেতরে লুকানো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করেছে।

এনবিআরের দেওয়া তথ্যমতে, দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে পরিচালিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে সোনা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলা ১১টার দিকে তল্লাশি শুরু করে ঢাকা কাস্টম হাউস। কাস্টমস কর্মকর্তা এবং প্রিভেন্টিভ টিম বিমানটিতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। বিমানটির মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দলের সদস্যরা যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে নামছিলেন, তখন তাঁদের সবার দেহ তল্লাশি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মো. সোয়েব গাজী নামের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেল্পারের বেল্টের ভেতর কালো স্কচটেপে মোড়ানো কিছু সন্দেহজনক বস্তু খুঁজে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে সেই প্যাকেটগুলো খোলার পর সেখান থেকে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম এবং সামগ্রিকভাবে সোনার মোট ওজন ১৩ দশমিক ৯২ কেজি। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এই সোনার দাম প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

প্রাথমিকভাবে কাস্টমস ধারণা করছে, মো. সোয়েব গাজী শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সোনার বারগুলো চোরাচালান করে দেশে এনেছিলেন এবং পরিকল্পনা ছিল এগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচার করার। জব্দ করা এই মূল্যবান ধাতুগুলো বর্তমানে বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে সংরক্ষিত আছে। এনবিআর জানিয়েছে, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী এই সোনার বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।