বর্তমান সময়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রযুক্তিবিদ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। পানি খরচ, কৃষি জমির ক্ষতি বা বিদ্যুৎ বিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলেও, মূল প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশ্নটি হলো—২০৩৫ সালের দিকে যখন এই বিশাল ভবনগুলোর ভেতরে থাকা অবকাঠামো সেকেলে হয়ে যাবে, তখন এই ইমারত এবং সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর কী হবে?

বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জোন্স ল্যাং ল্যাসেল (JLL)-এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকার ডেটা সেন্টারগুলোর মাত্র এক শতাংশ বর্তমানে খালি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই গ্রাহকরা রেকর্ড ২৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতার চুক্তি করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশের সমান। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে এখন টেক্সাসের পশ্চিম বা লুইজিয়ানার মতো প্রান্তিক এলাকাগুলোতে নতুন ডেটা সেন্টার তৈরির হিড়িক পড়েছে। এই খাতে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। লেখক রিকার্ডো সেমলার একে আমেরিকার পুরনো 'রাস্ট বেল্ট'-এর সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে এক সময় কারখানার ভিড়ে সমৃদ্ধি এসেছিল, কিন্তু বিশ্বায়ন ও অটোমেশনের ফলে সেই সব কারখানাই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের গতি অত্যন্ত দ্রুত। একটি হাইপারস্কেল কেন্দ্রের সার্ভার এবং নেটওয়ার্কিং মাত্র তিন থেকে ছয় বছর কার্যকর থাকে। কুলিং এবং ইলেকট্রিক আর্কিটেকচার চলে সাত থেকে পনেরো বছর। অথচ মূল ভবনটি টিকে থাকে ৩০ থেকে ৬০ বছর। এই বিশাল সময়ের ব্যবধানই ঝুঁকি তৈরি করে। যখন দ্রুতগতির এবং অধিক দক্ষ নতুন প্রযুক্তির আগমন ঘটে, তখন পুরনো ভবনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। এআই কোম্পানিগুলো তখন কর ছাড় বা সস্তা বিদ্যুতের লোভে অন্য শহরে চলে যেতে পারে, পেছনে ফেলে যায় বিশাল ও বিষাক্ত পরিত্যক্ত স্থাপনা।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকের শেষে ইন্টারনেটের প্রসারে প্রচুর ক্যাবল বসানো হয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে কোটি কোটি ডলারের সেই ক্যাবলগুলো ভূগর্ভে অন্ধকার এবং অব্যবহৃত রয়ে গেছে। একইভাবে, পাঁচ বছর আগে একটি ডেটা সেন্টার র‍্যাক যেখানে ৫-১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ নিত, এখন তা ১০০-২৫০ কিলোওয়াটে পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যতে ৬০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। এর অর্থ হলো, কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়লেও জায়গার চাহিদা কমতে পারে, যা এই নির্মাণ উন্মাদনাকে অসার করে তুলবে।

সেমলার একে 'প্রিজনার্স ডিলেমা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এনভিডিয়ার মতো কোম্পানিগুলোর আধিপত্যের এই যুগে কোনো প্রযুক্তি জায়ান্টই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে পারছে না। ফলে তারা অন্ধভাবে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের ঝুঁকি সাধারণ করদাতার ওপর চাপানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মেটা তাদের ২৭ বিলিয়ন ডলারের লুইজিয়ানা হাইপেরিয়ন ডেটা সেন্টারটি ব্লু আউলের সাথে যৌথ উদ্যোগে অর্থায়ন করেছে, যাতে মূল ঋণ মেটার ব্যালেন্স শিটে না থাকে। ফলে প্রকল্প ব্যর্থ হলে তার দায়ভার শেষ পর্যন্ত করদাতা বা পেনশন ফান্ডের ওপর পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এপক এআই-এর মতে, সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা প্রতি নয় মাস অন্তর দ্বিগুণ হচ্ছে। সিলিকন চিপের আয়ু ইমারতের চেয়ে অনেক কম। এই ভারসাম্যহীনতা যুক্তরাষ্ট্রে একটি 'সিলিকন বেল্ট' তৈরি করতে পারে—যেখানে হবে রাজস্বহীন পৌরসভার পাশে স্তব্ধ ও অব্যবহৃত ইমারতের সারি। লেখক মনে করেন, এই ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে বণ্টন না করলে একটি নিশ্চিত ব্যর্থতা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।