মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে জনমত অত্যন্ত নেতিবাচক। গ্যালাপের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ আমেরিকান তাদের এলাকায় এমন কেন্দ্র গড়ার বিরোধিতা করেন। এই হার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (৫৩ শতাংশ) চেয়েও বেশি। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৬৩ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭৪ শতাংশ এ ধরনের নির্মাণকাজের বিপক্ষে।

এই ব্যাপক বিরোধিতার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই অবকাঠামো নির্মাণের জোরালো পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাবেক ‘ফিক্সার’ মাইকেল কোহেনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে, যা রবিবার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচারিত হয়, তিনি দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্র এআই খাতে চীনকে ‘অনেক এগিয়ে’ রেখেছে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছেন। তার মতে, এসব ডেটা সেন্টার গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে না; কারণ বর্তমান গ্রিডটি পুরনো ও ‘ক্লান্ত’ বলে তিনি বর্ণনা করেন। যে সম্প্রদায়গুলো ডেটা সেন্টার গ্রহণ করছে না, তারা ‘ভুল’ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, এই কেন্দ্রগুলো আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সংশ্লিষ্ট শহর ও নগরে ‘বিশাল কর রাজস্ব’ নিয়ে আসবে। যারা এগুলো নির্মাণের আহ্বান জানাচ্ছেন, তারাই ‘চতুর’ সম্প্রদায়—এমন দাবি করেন ট্রাম্প। তার মতে, ‘প্রচুর সম্প্রদায়’ রয়েছে যারা তাদের এলাকায় এসব কেন্দ্র চায়।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ক্রিপ্টো শিল্পের কয়েকজন নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো শহরের মেয়র বা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হিসেবে সুযোগ পেলে তিনি ‘অবশ্যই’ তার এলাকায় একটি ডেটা সেন্টার চাইতেন।

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রচারিত হওয়ার পরপরই টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবিসি নিউজে রবিবার সকালে বলেন, এআই শিল্প ‘মূলত নিজেদের জন্য তৈরি সমস্যার গর্ত খুঁড়েছে’ এবং তাই তারা যে জনরোষ পেয়েছে, তা ‘যোগ্য’। অ্যাবট অভিযোগ করেন, কোম্পানিগুলো রাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেনি। এটি এ পর্যন্ত কোনো প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতার পক্ষ থেকে ডেটা সেন্টার ও এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর প্রতিবাদ। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন কয়েকজন ডেমোক্র্যাট গভর্নরও।

এই মাসের শুরুতে অ্যাবট টেক্সাসের গ্রিডে নতুন ডেটা সেন্টার সংযোজনের অনুমোদনের ওপর স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেন। তার মতে, ‘সমন্বিত যাচাই ও নিরীক্ষা’ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। গত মাসে নিউ ইয়র্কও বড় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে; সেখানে নতুন পরিবেশগত নিয়মকানুন তৈরি ও বিদ্যুৎ গ্রিডে প্রভাব মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।

এই জনবিরোধিতার কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। গত সপ্তাহে ন্যাশনাল রিপাবলিকান সিনেটোরিয়াল কমিটি একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে সতর্ক করে জানায়, ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের বিরুদ্ধে ডেটা সেন্টার বিরোধিতাকে ‘প্রচারাভিযানের কেন্দ্রবিন্দু’ বানিয়েছেন। স্মারকে বলা হয়, ‘এই দৌড়ে অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে ডেটা সেন্টারই হাস্টেডের গলায় ঝুলে থাকা নোঙরের মতো। যদি তিনি হেরে যান এবং এর দায় ডেটা সেন্টারের ওপর পড়ে, তাহলে সারা দেশের রাজনীতিকরা তা লক্ষ্য করবেন।’

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষ তাদের এলাকায় এআই ডেটা সেন্টারের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাখতেও বেশি আগ্রহী। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন ও গভর্নরদের পাল্টা পদক্ষেপ—দুইয়ের মধ্যে মার্কিন রাজনীতিতে এআই অবকাঠামো নির্মাণ এখন একটি জটিল বিতর্কে পরিণত হয়েছে।