বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ ৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ এখন খেলাপি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো খাত যখন এই গভীর সংকটে নিমজ্জিত, তখন বিপরীত ধারায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে ১৩টি বেসরকারি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জুন মাসের শেষ প্রান্তের হিসাব অনুযায়ী, পারফরম্যান্সের দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক, যাদের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ০.৩৩ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক (২.০৫%) এবং পূবালী ব্যাংক (২.৪৬%)। এই ব্যাংকগুলো অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও সতর্ক উপায়ে তাদের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কৌশলী পদক্ষেপ কাজ করেছে। তারা জানান, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া কেবল বড় অংকের ঋণের ওপর নির্ভর না করে এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) এবং ভোক্তা ঋণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী এবং সতর্ক ঋণ বিতরণ পদ্ধতিই তাদের খেলাপি ঋণের হার সর্বনিম্ন রাখতে সাহায্য করেছে বলে তারা মনে করেন।




