রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে ৫৫টি পণ্যের মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকার প্রায় প্রতিদিনের ব্যবহার্য ২৪টি পণ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বছরের ব্যবধানে ১৫টির দাম বেড়েছে, ছয়টির কমেছে এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে জানা গেছে, দাম বৃদ্ধি ও হ্রাসের এই তালিকার সঙ্গে খুচরা বাজারের প্রকৃত চিত্রের পার্থক্য রয়েছে।
টিসিবি জানিয়েছে, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল, মহাখালী ও রামপুরা বাজারের পণ্যের দামের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের তথ্যে পণ্যভেদে একাধিক ক্যাটাগরি ও দর উল্লেখ রয়েছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগির দাম এক বছরে ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; এক বছর আগে যা ছিল ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা। তবে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর গলির দোকানগুলোতে আরও ৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। খুচরায় সোনালী মুরগির দাম ৩৪০ টাকা, যা গত তিন সপ্তাহ ধরেই অপরিবর্তিত। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে।
দেশি মুরগির দাম আরও বেশি বেড়েছে। টিসিবির তথ্যমতে, এই মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা; অর্থাৎ ৮ শতাংশ বৃদ্ধি। বাজারেও প্রায় একই দামে দেশি মুরগি বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের দাম ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। মহল্লার দোকানগুলোতেও একই দর বলছেন বিক্রেতারা।
ফার্মের ডিমের দামেও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে টিসিবি। তাদের হিসাবে প্রতি হালি (চারটি) ডিম ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা; এতে বৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। কিন্তু বাজারে ভোক্তাদের এক হালি লাল ডিম কিনতে ৫৫ টাকা দিতে হচ্ছে। যদিও প্রতিডজন লাল ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকায় গত এক মাস ধরে পাওয়া যাচ্ছে।
ভোজ্য তেলের বাজারেও বছর ব্যবধানে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৬ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা; এতে বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দুই লিটারের বোতলের সয়াবিন তেল মানভেদে ৩৯৮ থেকে ৪১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে ছিল ৩৭৫ থেকে ৩৭৮ টাকা। এক লিটার বোতলের দাম ১৯৯ থেকে ২০৪ টাকা, আগে ছিল ১৮৮ থেকে ১৯০ টাকা। খোলা পাম তেলের দামও ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার ১৬৬ থেকে ১৭২ টাকায় পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১৫৩ থেকে ১৬০ টাকা।
আলুর দাম বছরে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা হয়েছে, আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। বাজারেও এ দামেই আলু বিক্রি হচ্ছে। খোলা ময়দার দাম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি, আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। প্যাকেটজাত ময়দার দাম ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা হয়েছে, আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। খোলা সাদা আটার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি, আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫২ টাকা। টিসিবির ময়দা ও আটার দরের সঙ্গে বাজারদরের মিল পাওয়া গেছে। খাদ্য পণ্যের পাশাপাশি পড়ুয়াদের লেখার কাগজের দামও এক বছরে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি দিস্তা ৩৪ থেকে ৪০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
দাম কমার তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে কাঁচামরিচ। টিসিবির তথ্যমতে, বছরের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম ৪০ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে, আগে ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। তবে গত মাসে প্রতিকেজি কাঁচামরিচের দাম ৩৬০ টাকায় উঠে গিয়েছিল। দেশি পেঁয়াজের দামও ৩০ শতাংশ কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি হয়েছে, আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কারওয়ান বাজারে দুই কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ডালের বাজারে বছরে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ দাম কমেছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। বড় দানার মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, আগে ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডাল ৬ শতাংশ কমে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, আগে ছিল ১১০ থেকে ১৪০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডালের দাম আগের মতোই ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।
চালের বাজারে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী বছরে ৩ শতাংশ কমে সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি এবং মোটা চাল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে; এক বছর আগে মোটা চাল ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। কিন্তু মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে মোটা চাল কিনতে কেজিতে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা গুনতে হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে ওই মার্কেট থেকে মাঝারি (আটাশ) চালের ২৫ কেজি বস্তা ১৪২০ টাকায় কেনা গার্ডিয়ান বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা সত্যজিৎ মণ্ডল বলেন, কেজি দরে কিনতে চাইলে ৫৭ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে।
সবজির বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে; তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ সবজিতে স্বস্তি রয়েছে। টিসিবির তালিকায় থাকা বেগুনের দাম বছরে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে, আগে ছিল ৫০ থেকে ১০০ টাকা; এক সপ্তাহে বেড়েছে ১১ শতাংশ। অন্যদিকে শসার দাম ৭ শতাংশ কমে মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।




