বলিভিয়ার আন্দিজ পর্বতমালার মেঘে ঢাকা বনাঞ্চলে এমন এক বুনো বিড়ালের সন্ধান মিলেছে যা গত শতাব্দীর পর থেকে বিড়াল পরিবারে (Felidae) প্রথম সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেল। মাত্র ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের এই ছোট প্রাণীটির গায়ে চিতার মতো গোল গোল ছোপ ছোপ দাগ। প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে 'টিলকায়ো' (Leopardus tilcayo)। বৈজ্ঞানিক জার্নাল কারেন্ট বায়োলজিতে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই আবিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।
২০১৭ সালে বলিভিয়ায় কর্মরত জীববিজ্ঞানী ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার পাওলা নোগালেস–আসকারুনজের কাছে স্থানীয় একটি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য থেকে ফোন আসে। অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, রাস্তার ধার থেকে এক স্থানীয় ব্যক্তি একটি অদ্ভুত বিড়ালছানাকে কুড়িয়ে পেয়ে গৃহপালিত জাত মনে করে এক বছর নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন। পরে বুনো স্বভাবের প্রাণীটিকে তারা অভয়ারণ্যে দিয়ে আসে। কর্মীরা প্রাণীটিকে 'অন্সিলা' বিড়াল ভেবে আদর করে নাম রেখেছিলেন 'টিগ্রিনো'।
তবে গবেষণার কাজে নেমে নোগালেস–আসকারুনজ প্রাণীটির অস্বাভাবিক ছোট আকার দেখে বিস্মিত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক বছর বয়সে টিগ্রিনো পূর্ণবয়স্ক হলেও সাধারণ অন্সিলার তুলনায় অনেক ছোট ছিল — পূর্ণবয়স্ক অন্সিলার ওজন সাধারণত সাড়ে তিন কেজির বেশি হয়ে থাকে। ২০১৯ সালে বলিভিয়ার স্থানীয় বুনো বিড়ালদের গাইডবুক তৈরির সময় নোগালেস আসল অন্সিলার সঙ্গে টিগ্রিনোর ছবির সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ্য করেন — বিশেষ করে গায়ের ছোপ দাগগুলো ছিল অনেক বড়। এই পর্যবেক্ষণই তাঁকে ডিএনএ পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।
বিজ্ঞানী এডুয়ার্ডো আইজিরিক ও জোনাস লেসক্রোয়ার্টের দল দক্ষিণ আমেরিকার টাইগার ক্যাট নিয়ে জাদুঘরের নমুনা পর্যালোচনা করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নোগালেস–আসকারুনজের তথ্যভান্ডার মেলাতেই দেখা যায়, টাইগার ক্যাটের মোট প্রজাতির সংখ্যা এখন পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে — যার মধ্যে বলিভিয়ার এই নতুন 'টিলকায়ো' ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। ডিএনএ পরীক্ষায় আরও জানা যায়, প্রজাতিটি তার কাছের আত্মীয়দের থেকে প্রায় ১৪ লাখ বছর আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে 'পাম্পাস ক্যাট' চিহ্নিত হওয়ার পর বিড়াল পরিবারে এবারই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রজাতি যুক্ত হলো।
বর্তমানে এই প্রজাতির সদস্যরা বলিভিয়ার ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলের একটি বন্য প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রজাতিটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা বন্য প্রাণী সংরক্ষণে অত্যন্ত জরুরি। কারণ বন উজাড় ও অবৈধ বন্য প্রাণী বাণিজ্যের কারণে নতুন এই বিড়ালটি ইতিমধ্যেই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।




