বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যে ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মঙ্গলবার প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটার মধ্যবর্তী সময়ে হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেট এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৯৩৬ জন এবং নিশ্চিত হামে আরও ১০০ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬ জনে, যা দেশের ইতিহাসে এই রোগের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বয়সভিত্তিক মৃত্যুর সঠিক তথ্য নেই, তবে রোগতত্ত্ববিদদের মতে, সব বয়সের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হলেও শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময়ে উপসর্গজনিত মৃত্যুগুলোকেই হামে মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জন উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২০১ জনের শরীরে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৭৭ জন। এই সময়ে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আশার কথা হলো, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা এই পরিস্থিতিকে 'নজিরবিহীন' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, গত আট বছর ধরে দেশে হামের সংক্রমণ ৪০০-র বেশি হয়নি, যার ফলে ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণ এবং ২০২৬ সালে নির্মূলের সনদ পাওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্যকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকাদান কর্মসূচিতে চরম অবহেলা এই সংকটের মূল কারণ। বছরের শুরু থেকেই প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এপ্রিল ও মে মাসে গণটিকাদান কর্মসূচি চললেও প্রায় ৪০ লাখ শিশু সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টির শিকার এবং ৫১ শতাংশ শিশুর টিকার বয়স হয়নি বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।




