চলতি বছরে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার এক দিনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। এর ফলে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে। আগের কোনো দিনে এত বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৩৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী দুজন, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী দুজন এবং ১৬ থেকে ২০, ৩৬ থেকে ৪০, ৪১ থেকে ৪৫ ও ৬১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী একজন করে মারা গেছেন।
এদিন সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় — ৩৮৮ জন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভর্তি হয়েছেন ৩০২ জন। ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ১৯১ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১৭০, রাজশাহীতে ১৪৩, বরিশালে ১৯১, ময়মনসিংহে ১১০, চট্টগ্রামে ৮৬, রংপুরে ১৪৫ এবং সিলেটে মাত্র ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা। সেখানে ৮ হাজার ৭২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খুলনা বিভাগে রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৬৭৩।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন এবং জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আগস্টে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৪ জন।
বিশেষজ্ঞরা বারবারই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশা নিধন এবং বাসস্থান ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ডেঙ্গু শনাক্ত হলে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




