কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বাকশিমুল গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ঘুংঘুর নদ। এই নদের ওপর ২৮ বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। ফলে সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে সেতুর এক পাশে ৯টি সিঁড়ি তৈরি করেছেন। অপর পাশে কোনো সিঁড়ি নেই, সেখানে উঠতে নামতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। সমতল থেকে সেতুটি বেশ উঁচুতে থাকায় শিশু ও বয়স্কদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। পূর্ব পাশে সেতুর গোড়ায় সেই ৯টি সিঁড়ি রয়েছে, যেগুলো বেয়ে স্থানীয় মানুষ নদ পার হন। পশ্চিম পাশে ওঠানামার জন্য কয়েকটি মাটি ও বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। সেতুর পূর্ব পাশে সংলগ্ন এলাকায় পাকা সড়ক আছে, আর পশ্চিম পাশেও প্রায় ২০ ফুট দূরে একটি পাকা সড়ক রয়েছে। দুই পাশের এই সড়কের সঙ্গে সেতুটির সংযোগ স্থাপন করা গেলে এটি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাকশিমুল ইউনিয়নের মধ্যে বাকশিমুল গ্রামটি বেশ বড়। সংযোগ সড়ক থাকলে এই সেতু দিয়ে বাকশিমুলসহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের চলাচলে সুবিধা হতো। অপর বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়ে গাড়ি না চলার কারণে আমাদের অনেক পথ ঘুরে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলে আমরা অনেক আগেই এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারতাম। এখনকার সময়ে এমন একটি ব্রিজ বানাতে কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। আমরা চাইছি, ব্রিজের দুই পাশের রাস্তাটা নির্মাণ হোক। এরপর সংস্কার করে ব্রিজটি ব্যবহারের ব্যবস্থা করুক কর্তৃপক্ষ।’
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ বা সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমনকি কোন সরকারি দপ্তর সেতুটি নির্মাণ করেছে, তা নিয়েও অনেক বাসিন্দা নিশ্চিত ছিলেন না। বাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম বলেন, সেতুটি ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়েছিল। তাঁর ধারণা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘যে জায়গায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কিন্তু বর্তমানে সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা গেলে সেতুটি এখনো ব্যবহার সম্ভব।’
বুড়িচং উপজেলা এলজিইডির সদ্য সাবেক প্রকৌশলী আলিফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুটি এলজিইডির মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়েছিল। পরে ওই জায়গার একাংশ নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে মামলা হয়। মামলা চলমান থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িচং উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, তিনি সম্প্রতি বুড়িচংয়ে যোগ দিয়েছেন। সেতুটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত খোঁজখবর নেব। এরপর কীভাবে সেতুটিকে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে।’
সেতু দিয়ে ওঠানামার সময় বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষ হোঁচট খেয়ে আহত হয়েছেন বলে জানান বাকশিমুল গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বড় ব্রিজ হলেও এটা দিয়ে পায়ে হাঁটা ছাড়া কোনো গাড়ি চলে না। একসময় মানুষ নৌকায় এই নদ পার হত। ব্রিজ হওয়ার পর আমরা ভাবছিলাম জীবনযাত্রা সহজ হবে। কিন্তু ব্রিজটা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।’




