রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তির চাপ দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালটির নারী ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ৪১টি শয্যার ৪০টিতেই রোগী রয়েছে, আর পুরুষ ওয়ার্ডের ৫০টি শয্যার মধ্যে ৪০টি দখল হয়ে আছে। বেশিরভাগ রোগীই মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকার বাসিন্দা।

মনসুরাবাদ এলাকার গৃহকর্মী হাজেরা বেগমের (৫০) পরিবারে ১১ জন সদস্য। এর মধ্যে তাঁর দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ এবং ১৫ মাস বয়সী নাতনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ছোট ছেলে আনিস মিয়া (২৪) পাঁচ দিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি। গত ২৮ আগস্ট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এলে শয্যা খালি না থাকায় ফিরে যেতে হয়। পরে ৩০ আগস্ট রাতে ছেলের অবস্থা অবনতি হলে তাঁকে জরুরিভাবে ভর্তি করানো হয়।

ছেলের চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ৮–৯ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। অসুস্থ ছেলের পাশে বসে হাজেরা বলেন, গতকাল রাগ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন, কারণ টাকাপয়সা জোগাড় করতে পারেননি। পরে ব্যবস্থা করে আবার এসেছেন। সকালে ছেলের পাতলা পায়খানার খবর পেয়ে আর থাকতে পারেননি। তিনি জানান, ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে ধার করে দুই হাজার টাকা নিয়ে এসেছেন। চিকিৎসার খরচের চাপে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পরিবারের বাকি চারজন আক্রান্ত সদস্য বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে বড় ছেলে হাবিবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাজেরা।

একই হাসপাতালের নারী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ১২ বছরের তানহা। গত মঙ্গলবার জ্বর শুরু হলে তিন দিন বাড়িতে রেখে সেবা দেন তাঁর মা মাকসুদা বেগম। পরে পেট ও বুকব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মাকসুদা জানান, মেয়ের এখন শরীরব্যথা ও পেটব্যথা বেশি, পেট ফুলে আছে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে এবং খাওয়ার রুচি নেই।

মোহাম্মদপুরের নুরুল আমিনের ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিয়ামুল বৃহস্পতিবার রাতে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। ছেলের খাওয়ার রুচি নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, জোর করে প্রতিবেলা কিছুটা খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।

কল্যাণপুরের নির্মাণশ্রমিক মো. ফজলুল ছেলে শহিদকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন। শহিদের সাত দিন ধরে জ্বর। কাজে যেতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। রাজশাহী থেকে ছেলের কিডনির অস্ত্রোপচার করাতে পরিবারসহ ঢাকায় এসেছিলেন গাড়িচালক মো. আনোয়ার। এখানে এসে তাঁর মেয়ে রিয়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় এবং গতকাল তাকে ভর্তি করানো হয়েছে। এখন ছেলের অপারেশন নিয়ে যেমন চিন্তা, তেমনি মেয়ের অসুস্থতা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা সাদ আহম্মদ আট দিন ধরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর রক্তের প্ল্যাটিলেট ১৪ হাজারে নেমেছিল, এখন ৩১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। মশকনিধন কার্যক্রম ঠিকমতো হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত স্প্রে করা হলে ডেঙ্গুর এমন প্রকোপ দেখা দিত না। মোহাম্মদপুরের মো. ইব্রাহিমও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, মশা নিধনের নামে শুধু ধোঁয়া দেওয়া হয়, ওষুধের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তিন দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন তিনি।