চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। জুলাই ও আগস্ট — এই দুই মাসে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই আমদানির মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
যশোরের ঐতিহ্যবাহী বড়বাজারে গত রবিবার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা এই ইলিশগুলোকে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে ‘বরিশালের ইলিশ’ পরিচয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে আকারভেদে ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছের কেজি দর ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে আসা ক্রেতাদের একাংশ জানান, বর্তমানে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার আকার, স্বাদ ও গন্ধে আগের দেশি ইলিশের তুলনায় স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাঁদের ধারণা, এসব মাছ আসলে ভারত থেকে আসা — কিন্তু বিক্রেতারা সেগুলোকে বরিশালের ইলিশ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। এমন অভিযোগের মধ্যেই বড়বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ এই বক্তব্য পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বাজারে বিক্রি হওয়া সব ইলিশই দেশি।
ইলিশ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ভারত থেকে সম্প্রতি যে চালানগুলো এসেছে, তার চেহারা ও বৈশিষ্ট্যে মিল নেই। মাছগুলোর পেট বেশ মোটা এবং ডিমে ভরা। দেশি ইলিশের যে প্রাকৃতিক সুবাস ও স্বাদ থাকে, এতে তা অনুপস্থিত। তবে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে মাছগুলো সত্যিই ভারতের উপকূল থেকে আনা হয়েছে।
ভারতীয় ইলিশ আমদানির কারণ জানতে চাইলে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় কেন এই আমদানি চলছে। অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৎস্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে যে ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে, সেটি প্রকৃত অর্থে ভারতের সমুদ্রের মাছ কি না তা যাচাই করা জরুরি। ভারতের ব্যবসায়ীরা অন্য কোনো দেশ থেকে ইলিশ এনে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই বলে মন্তব্য তাঁর।
স্থানীয় বাজারে ভোক্তাদের মাঝে বিভ্রান্তি কমাতে আমদানি করা ইলিশের উৎস ও মান যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি।




