দেশজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রকোপ কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন পাঁচজন। একই সময়সীমার মধ্যে নতুন করে ৮৩৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে আজ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তির ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে, যেখানে ১৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়—১৩৫ জন। এছাড়া বরিশালে ১১৭ জন, চট্টগ্রামে ১০০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহীতে ৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে মাত্র ৩ জন নতুন রোগী ভর্তির রেকর্ড রয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৮ হাজার ৯২৯ জনের মধ্যে ২৬ হাজার ৮৯৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৯৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ১৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন; এর মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৭৯ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৭৩ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার হিসাব ধরলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫২ জনে।
এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। মোট রোগীর ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন; মোট ৮২ জন মৃতের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্মই ডেঙ্গুর প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৪ হাজার ১২২ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৪ হাজার ৬৫ জনসহ মোট ৮ হাজার ১৮৭ জন রোগী এই ১০ বছরের বয়সসীমার মধ্যে পড়ছেন।
শহরাঞ্চলে সংক্রমণের হার গ্রামাঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। চলতি বছর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ হাজার ৯৭২ জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ৭ হাজার ৫৯১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক হিসাব বলছে, চলতি আগস্ট মাসেই এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬১৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা এ বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। গত জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২০৬ জন।



