জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আগামী শনিবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে, যেখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন কর্মী ২৪টি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় কাজ করবেন। এসব কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করবেন এবং সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার উদ্যোগ নেবেন।
শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপরই ডিএনসিসির মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। শুক্রবার রাতে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অঞ্চল-৫ এবং সংসদ ভবন সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লার্ভা নিধন ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের জন্য অঞ্চল-২, ৩ এবং ৪ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশকনিধন কর্মীকে তলব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সকল কর্মী নির্দিষ্ট সময়ে তাদের দায়িত্বস্থলে উপস্থিত থাকেন। তবে কেন্দ্রীয় দলের বাইরে অঞ্চল-২, ৩ এবং ৪-এর বাকি কর্মীরা তাদের নিজস্ব এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
একই সঙ্গে অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ ডিএনসিসির বাকি সব অঞ্চলেও সমন্বিত বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই অভিযানে বিশেষ করে আগে থেকে শনাক্ত করা হটস্পট এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেবল মশা মারাই লক্ষ্য নয়, বরং জমে থাকা পানি অপসারণ, উৎস ধ্বংস এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে 'সোর্স রিডাকশন'-এর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পুরো কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ওপর। মাঠ পর্যায়ে জনবল মোতায়েন এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়েছে, যা শনিবার সকাল ৯টায় খোলা হবে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তথ্য ও প্রচারপত্র প্রদর্শন করা হবে।



