জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ। সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার জেসি কমপ্লেক্সের সামনে ‘সচেতন নাগরিক কমিটি’র উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন, যারা মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। মিছিলের সমাপ্তিতে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গাজী নজরুলের প্রতীকী কুশপুতুল দাহ করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা এমপি নজরুলের কঠোর সমালোচনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা সরাসরি মরিয়মের মৃত্যুর জন্য তাকে দায়ী করেন। ভুরুলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম মন্তব্য করেন যে, গাজী নজরুল একজন নীতিহীন মানুষ এবং তাকে অনেক আগেই আইনের আওতায় আনা উচিত ছিল; তবে তা করা না হওয়ায় আজ এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আটুলিয়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান হেলাল তাকে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি গরিবদের টিন চুরিするなど বিভিন্ন অপরাধ করলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ নিয়ে এতদিন নিজেকে নিরাপদ রেখেছেন। সদর উপজেলার রাবেয়া খাতুনের দাবি, মরিয়মকে বিয়ের বিষয়ে নজরুল প্রতারণা করেছেন, যা আগে চিহ্নিত করা হলে হয়তো এই ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত। পাশাপাশি রাফিয়া ইসলাম জানান, নজরুলের কর্মকাণ্ড সাতক্ষীরার সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সংসদের উচিত তাকে শুধু বরখাস্ত না করে বিচারের মুখোমুখি করা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার সন্ধ্যায়, যখন পুলিশ সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর পুলিশ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয়। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার জানিয়েছেন, ঘটনার গভীরে যেতে এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে।




