কঠোর খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েটের পথে হাঁটার পরিবর্তে সুস্থ জীবনযাপন এবং পছন্দের অভ্যাসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন হলিউড অভিনেত্রী র্যাচেল ব্রুক স্মিথ। তার বিশ্বাস, বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অন্তরের সৌন্দর্য অনেক বেশি মূল্যবান। এছাড়া চেহারার উজ্জ্বলতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর কেবল খাবারের প্রভাব নয়, বরং মানসিক চাপের মাত্রাও বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন তিনি। আজ ৭ নভেম্বর র্যাচেল ব্রুক স্মিথের ৩৯তম জন্মদিন। ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও পরিচিত।
অ্যারিজোনার ফিনিক্সে বেড়ে ওঠা র্যাচেলের শৈশব কেটেছে জিমন্যাস্টিকসের প্রতিযোগিতায়। তবে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশনা, নাচ এবং অভিনয়ের প্রতি তার প্রবল ঝোঁক ছিল। স্কুলজীবনে এই সৃজনশীল কাজগুলোতে তিনি এতটাই নিমগ্ন থাকতেন যে অনেক সময় ঘুমের সুযোগও পেতেন না। তার লক্ষ্য ছিল পারফর্মিং আর্টসে সমৃদ্ধ কোনো কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করা।
শারীরিক সুস্থতার জন্য র্যাচেল শরীরচর্চায় বৈচিত্র্য রাখতে পছন্দ করেন, কারণ একঘেয়েমি তাকে দ্রুত ক্লান্ত করে দেয়। সুস্থ থাকার জন্য তিনি কখনো যোগব্যায়াম, কখনো বক্সিং, আবার কখনো হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (HIIT) এবং নাচের সাহায্য নেন। যদিও তিনি প্রথাগত ডায়েট অনুসরণ করেন না, তবে খাবার ও জীবনযাপনের মান বজায় রাখার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।
অভিনয়ের বাইরেও র্যাচেল ব্রুক স্মিথ ‘আনব্রেকেবল প্রোডাকশনস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক কনটেন্ট তৈরি করা, যাতে মানুষ জীবনের কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করতে পারে। এছাড়া তরুণ অভিনয়শিল্পী এবং শিশুদের জন্য তিনি মোটিভেশনাল বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তার পরামর্শ হলো, জীবন ও পেশায় যতটা সম্ভব বহুমুখী দক্ষতা অর্জন করা, কারণ কোন দক্ষতাটি ভবিষ্যতে অভিনয়ের সুযোগ এনে দেবে তা আগে থেকে নিশ্চিত করা যায় না।
ভবিষ্যতে তিনি কমেডি, মেধাবী বা ‘নার্ড’ চরিত্রের পাশাপাশি অ্যাকশন হিরো হিসেবে পর্দায় আসতে আগ্রহী। তার কর্মশালার মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছেন বলে তিনি জানান। র্যাচেলের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘আয়রন ম্যান ২’, ‘দ্য নাইস গাইস’, ‘সেন্টার স্টেজ: টার্ন ইট আপ’, ‘বারলেস্ক’ এবং ‘ব্রিং ইট অন: ফাইট টু দ্য ফিনিশ’।




