অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবং সামিয়া অথইয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং পরবর্তীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিসের কোনো উত্তর না দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপুর ভাষ্যমতে, সংগঠনের সালিশ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘পুতুলের বিয়ে’ নামক একটি নাটকের শুটিং সেটে। সেখানে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথইয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়, যা মারধরের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে শিল্পী সংঘের স্বাধীন সালিশ কমিটি উভয় পক্ষকে তলব করেছিল। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা শুনানির পর সালিশ কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল যে, দুই অভিনেত্রীই ক্ষমা চেয়ে লিখিত বিবৃতি দেবেন এবং একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করবেন। তবে কোনো পক্ষই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেননি বলে জানান রাশেদ মামুন অপু।

সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ৪ অক্টোবর দুই অভিনেত্রীর নামে পৃথক নোটিস পাঠানো হলেও তা ডাকযোগে ফেরত আসে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় সালিশ কমিটি সদস্যপদ স্থগিতের প্রস্তাব দেয়, যা কার্যনির্বাহী পরিষদ গ্রহণ করে। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু স্পষ্ট করে বলেন, কর্মস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই শিল্পী সংঘ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নোটিসে সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠুর স্বাক্ষর ছিল।

সদস্যপদ স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের সেই লাইভে তিনি শুটিং সেটের ঘটনা এবং সংঘের বিচার প্রক্রিয়ার কথা জানান। তিশা স্বীকার করেন যে, ভিডিও বার্তা না পাঠানোর কারণেই তাকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে পেশাগত বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এনে কারো ক্যারিয়ার নষ্ট করার চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মিথ্যা প্রচারণার ফলে শিল্পীদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া লাইভে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দিনে অনেক সত্য সামনে আসবে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সামিয়া অথইয়ের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।