যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজা চার্লসের বিষয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই চার্লস স্পেন্সার। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর একটি নতুন বইয়ের অংশবিশেষ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত হলে এই তথ্য সামনে আসে। স্পেন্সারের মতে, ১৯৯৭ সালে ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের আচরণ ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং প্রফুল্ল।

বইটিতে স্পেন্সার উল্লেখ করেছেন, ডায়ানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অন্যান্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতো চার্লস বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েননি কিংবা শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠস্বর কাঁপেনি। বরং তাঁকে এতটাই উচ্ছ্বসিত মনে হয়েছিল যে, স্পেন্সারের কাছে মনে হয়েছিল চার্লস যেন কোনো বড় লটারি জিতেছেন। স্পেন্সারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডায়ানার প্রস্থান চার্লসকে তাঁর দীর্ঘদিনের পছন্দের মানুষ ক্যামিলা পার্কারকে বিয়ে করার সুযোগ করে দিয়েছিল, যা আগে সম্ভব ছিল না। তিনি মনে করেন, যাকে ভালোবাসতেন না তাকে হারানোর শোকের চেয়ে যাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন তাকে পাওয়ার আনন্দই চার্লসের মনে আগে প্রাধান্য পেয়েছিল।

এই গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার্লসের মুখপাত্রের মাধ্যমে একটি বিরল প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শোকের সময় মানুষের বিচারবোধ, যুক্তি এবং স্মৃতিশক্তি প্রভাবিত হতে পারে। তবে বইটির সর্বশেষ প্রকাশিত অংশগুলো নিয়ে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে আর কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বইটিতে ডায়ানার ব্যক্তিগত মানসিক যন্ত্রণার বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, মানসিক অবসাদে ভুগে ডায়ানা বেশ কয়েকবার যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলের একটি আত্মহত্যার জন্য পরিচিত স্থানে গাড়ি চালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সন্তানদের কথা চিন্তা করে শেষ মুহূর্তে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন।

উল্লেখ্য, চার্লস ও ডায়ানার সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৯২ সালে তাঁরা আলাদা হন এবং ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডায়ানা তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ করে বলেছিলেন, তাঁদের বিয়েতে মূলত তিনজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, যেখানে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন ক্যামিলা পার্কারের উপস্থিতির কথা। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ক্যামিলাকে বিয়ে করেন চার্লস। ১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সে ডায়ানা এবং তাঁর প্রেমিক দোদি আল-ফায়েদ প্রাণ হারান।