বিনোদনের মানোন্নয়নে এবং দর্শকদের রুচি সমৃদ্ধ করার প্রধান দায়িত্ব পরিচালকের। অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণের মতে, একজন নির্মাতাই নতুন ভাবনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দর্শকের মানকে ঋদ্ধ করতে পারেন। যদি নির্মাতারা কেবল দর্শকদের চাহিদার কথা ভেবে কাজ করেন, তবে রুচির কোনো পরিবর্তন হবে না। গ্লিটজের সাক্ষাৎকার সিরিজ 'আড্ডানামা'র দশম পর্বে নিকিতা নন্দিনীর সঞ্চালনায় আলাপচারিতার সময় তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিনোদন শিল্পের বর্তমান অবস্থাকে বর্ণনা করতে গিয়ে বর্ষণ ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বংসস্তূপের পর যেমন ধীরে ধীরে নতুন চারা গজিয়ে গাছ বড় হয়, বর্তমান সময়টিও ঠিক তেমন। বর্তমানে অধিকাংশ শিল্পী এক ধরণের 'সারভাইভাল মুড' বা টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি এই অস্থিরতা কাটিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় আশাবাদী।

নিজের অভিনয় জীবনের কথা স্মরণ করে ইমতিয়াজ বর্ষণ জানান, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল জন্মশহর চট্টগ্রামে। পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে প্রথম নাটকে অভিনয় করেন তিনি, যেখানে তার চরিত্র ছিল একজন পাকিস্তানি মেজর। তবে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে তিনি ঢাকা আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, কারণ তার মতে ঢাকার বাইরে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস খুব কম মানুষই করে। মফস্বল থেকে এসে রাজধানীতে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নিজের লড়াই নিজে লড়ার অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে তৈরি করেছে। শুরুতে তিনি পরিচালকের সহকারী হিসেবে ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন, পরে অভিনয়ে প্রবেশ করেন এবং পাশাপাশি গান গাওয়া শুরু করেন।

ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০২০-২১ সালে। 'উনপঞ্চাশ বাতাস' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করার পর তিনি 'চন্দ্রাবতী কথা' ও 'মুন্সিগিরি' সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ওটিটি সিরিজ 'কাইজার'-এ মোক্তার মাহমুদ জাফরি নামক খলচরিত্রটি তাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ, পরিচালকের সাথে আলোচনা এবং চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড হিস্ট্রি তৈরির মতো পদ্ধতিগত কাজ করেছেন।

সেন্সরশিপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, দেশের সেন্সর বোর্ডের কিছু সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সংস্থাকে সবসময় ইতিবাচকভাবে দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকে, যা অনেক সময় সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে অনেক সময় গল্পের প্রকৃত রূপ দর্শকদের সামনে আনা সম্ভব হয় না।

অভিনয়ের বাইরে নিজেকে 'বোহেমিয়ান' হিসেবে বর্ণনা করলেও পেশাগত ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। নিজের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজেই নিজের প্রথম সমালোচক এবং প্রয়োজনীয় গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি তিনি 'সেপারেশন' নামক একটি ওয়েব ফিল্মের কাজ শেষ করেছেন। দ্রুত মুক্তি পেতে যাওয়া এই কাজটির পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মের কাজ করতেও আগ্রহী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এক ঝটপট প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, সিনেমা তার সবচেয়ে স্বস্তির মাধ্যম এবং অমরিশ পুরী তার প্রিয় খলনায়ক। অভিনেতা না হলে তিনি সম্ভবত একজন মিউজিশিয়ান হতেন। ঢাকা শহরকে তিনি একটি অত্যন্ত 'উদার শহর' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।