নতুন প্রজন্মের প্রতিভাদের অন্বেষণে আয়োজিত ‘ফেস অব বাংলাদেশ ২০২৬’-এর জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালেতে শিরোপা জিতে নিলেন অদিত সারজিল কোরেশি এবং আফসানা সুলতানা। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত এই গালা অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী বিভাগে যথাক্রমে অদিত এবং আফসানা বিজয়ীর মুকুট পরেন। এই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাঁরা এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ফেস অব এশিয়া ২০২৬’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন। আগামী ৬ থেকে ২৬ নভেম্বর এশিয়া মডেল ফেস্টিভালের অংশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক আসরে এশিয়ার প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করবেন তাঁরা।

চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনের জন্য ফিনালেতে মোট তিনটি ভিন্ন পর্বে বিচারকার্য পরিচালিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটির প্রচার ও স্ট্রিমিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছে অফিসিয়াল পার্টনার ক্যাপিটাল এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিযোগিতার ফলাফল অনুযায়ী, পুরুষ বিভাগে প্রথম রানার-আপ হয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ আরউইন এবং দ্বিতীয় রানার-আপ নির্বাচিত হয়েছেন রাকিবুল হাফিজ ইখতি। অন্যদিকে, নারী বিভাগে প্রথম রানার-আপের খেতাব পান সাদিয়া হোসেন অর্পিতা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হন ফেরদৌসী তানভীর ইচ্ছা।

জাতীয় শিরোপার পাশাপাশি বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় সব পুরস্কার ও বিশেষ সেবা। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরের জন্য বসুন্ধরা গোল্ড’স জিমের সাবস্ক্রিপশন, অ্যামাজন ক্যাফে ও আপন ফ্যামিলি মার্টের ৫,০০০ টাকা মূল্যের গিফট ভাউচার এবং বসুন্ধরা সিটির দুটি ভাউচার। এছাড়া দুই বিজয়ীর জন্য ক্যাপিটাল ড্রামার সঙ্গে চুক্তির সুযোগ থাকছে। বিশেষ ক্যাটাগরিতেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রতিযোগীদের। ‘বেস্ট ফিজিক’ পুরস্কার জিতেছেন অদিত সারজিল কোরেশি, ‘বেস্ট স্মাইল’ পেয়েছেন আফসানা সুলতানা, আর ‘বেস্ট হেয়ার’ পেয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ আরউইন। এছাড়া ‘বেস্ট স্কিন’ পেয়েছেন সাদিয়া হোসেন অর্পিতা এবং ‘বেস্ট পারসোনা’ পুরস্কার জিতেছেন রাকিবুল হাফিজ ইখতি (পুরুষ) ও ফেরদৌসী তানভীর ইচ্ছা (নারী)।

এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে ৫ শতাধিক তরুণ-তরুণী আবেদন করেছিলেন। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর নারী ও পুরুষ বিভাগে ১০ জন করে মোট ২০ জনকে মূল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও টাস্কের মাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা ও বহুমুখী প্রতিভা যাচাই করা হয়। শেষ পর্যায়ে ৫ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ মোট ১০ জন প্রতিযোগী ফিনালেতে লড়াই করেন। বিচারক প্যানেলে ছিলেন সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান, ফটোগ্রাফার রফিকুল ইসলাম রাফ, ডা. তাওহিদা রহমান ইরিন, মেহরুজ মুনির, অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া, আজরা মাহমুদ এবং শেখ সাইফুর রহমান।

২০১৯ সাল থেকে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি)-এর আয়োজনে ‘ফেস অব বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এএমটিসি বাংলাদেশে ‘ফেস অব এশিয়া’র জাতীয় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ‘ফেস অব এশিয়া’র শিরোপা জয় করে এবং এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ দশে স্থান করে আসছে। এএমটিসি-র প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হিসেবে নতুন প্রতিভাদের খুঁজে বের করা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিজয়ীদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, সিউলের মঞ্চে তাঁরা দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।