নেটফ্লিক্সের নতুন জাপানি সিরিজ 'প্লাস্টিক বিউটি' মুক্তির পরপরই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নৈতিকতা এবং শারীরিক অবয়ব নিয়ে মানুষের মানসিক নিরাপত্তাহীনতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই আট পর্বের সিরিজটি খুব দ্রুতই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক নন-ইংলিশ টিভি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিতীয় সপ্তাহে এর দর্শকসংখ্যা দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে বর্তমানে এটি তালিকার পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে এই সিরিজটি দেখা হয়েছে মোট ৬ কোটি ৭৩ লাখ ঘণ্টা।
সিরিজটির মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ফুমি নুমাতা নামক একজন দক্ষ জরুরি বিভাগের সার্জনকে কেন্দ্র করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কেবল জীবন বাঁচানো। তবে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের পরিবেশ প্রতিকূল হয়ে ওঠায় তিনি কসমেটিক সার্জারি বা সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচারের দুনিয়ায় প্রবেশ করেন। সেখানেই তাঁর দেখা হয় প্রভাবশালী সার্জন রিন তইয়ামারের সঙ্গে, যাকে অনেকে 'হ্যান্ড অব গড' বলে অভিহিত করেন। গল্পের মূল সংঘাত তৈরি হয় ফুমি এবং রিনের ভিন্নধর্মী জীবনদর্শনের মধ্য দিয়ে। ফুমি মনে করেন, শারীরিকভাবে সুস্থ মানুষের শরীর পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, রিনের মতে, সৌন্দর্যের মাধ্যমে মানুষের মানসিক কষ্ট দূর করা সম্ভব এবং এটি কেবল বিলাসিতা নয়। এই वैचारिक দ্বন্দ্ব থেকেই কাহিনীতে অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি এবং পারিবারিক সম্পর্কের এক জটিল জাল বুনে ফেলা হয়েছে।
সিরিজটির সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে অভিনয়শিল্পীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। মায়ু মাতসুওকা ফুমি নুমাতার চরিত্রে একগুঁয়ে কিন্তু দক্ষ চিকিৎসকের রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে, রিসা নাকা রিন তইয়ামারের চরিত্রে অভিনয় করে দেখিয়েছেন কীভাবে সৌন্দর্য আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের উৎস হতে পারে। রটেন টমেটো-সহ বিভিন্ন রিভিউ সাইটে এই দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার রসায়ন ও দ্বন্দ্বকে সিরিজের অন্যতম শক্তিশালী দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউকি সাইতোর পরিচালনা এবং জুনিয়া ইকেগামির চিত্রনাট্যে নির্মিত এই সিরিজের জন্য নেটফ্লিক্স ও নির্মাতা দল জাপানের কসমেটিক সার্জারি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে গভীর গবেষণা চালিয়েছে। নির্মাতাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল অস্ত্রোপচারের দৃশ্য দেখানো নয়, বরং এর পেছনে থাকা সামাজিক ও মানসিক চাপের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা। সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ইতিবাচক। 'ডিসাইডার' এবং 'লেজারবাইট'-এর মতো জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলো অভিনয়, নির্মাণ ও চিত্রনাট্যের প্রশংসা করেছে। তবে ইউটিউব মুভি রিভিউ সাইট 'বাট হোয়াই হো'-এর মতে, গল্পের মূল ভাবনা চমৎকার হলেও কিছু সম্পর্কের সমাধান খুব সহজভাবে দেখানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও, সাধারণ দর্শকরা ক্রাইম-থ্রিলার বা ফ্যামিলি ড্রামার বাইরে এমন ব্যতিক্রমী গল্পের জন্য সিরিজটিকে দারুণ পছন্দ করছেন।




