দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত প্রতিবন্ধী পরিচর্যা কেন্দ্রের সাবেক প্রধানকে একাধিক বাসিন্দাকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এই ঘটনা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। সিউলের পশ্চিমে ইনছন শহরের সেকদংওন নামের ওই প্রতিষ্ঠানের তিনজন বাসিন্দাকে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কিম পদবির ওই ব্যক্তিকে এই সাজা দেওয়া হয়।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গুরুতর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী এক নারী ভুক্তভোগী এগিয়ে এলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে গ্যাংহওয়া কাউন্টির পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের ওপর পরিচালিত এক গভীর জরিপে জানা যায়, বর্তমান ও প্রাক্তন ২০ জন নারী বাসিন্দা যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সারা দেশের ১,৫০৭টি প্রতিবন্ধী পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নির্দেশ দেয়, যেখানে ৩৩টি নির্যাতনের সন্দেহজনক ঘটনা ধরা পড়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক এই নির্যাতনকে 'রাষ্ট্রের অস্তিত্বের কারণকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন একটি গুরুতর বিষয়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১১ সালে প্রতিবন্ধীদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষায় আইন কঠোর করার পরও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারল। কেন্দ্রটির পরিচালকের দীর্ঘদিনের কৃতকর্ম কীভাবে এতদিন চোখ এড়াল, সে নিয়েও জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গ্যাংহওয়া কাউন্টি সেকদংওনকে বন্ধের আদেশ দিয়েছে, পাশাপাশি ইনছন সিটি কর্তৃপক্ষ পরিচালনাকারী ফাউন্ডেশনের লাইসেন্সও বাতিল করেছে। তবে অবশিষ্ট বাসিন্দাদের অন্যত্র স্থানান্তর এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের ব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বন্ধের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ফাউন্ডেশনটি প্রশাসনিক মামলা দায়ের করেছে।




