চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার রাতে গালাতাসারাইয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা। ব্যক্তিগতভাবে কোনো গোল না করলেও, দলের এই বড় জয়ে প্রধান কারিগর হয়ে উঠেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। ম্যাচে দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি, যার মধ্যে বিশেষ করে অ্যান্থনি গর্ডনের করা তৃতীয় গোলটির প্রস্তুতি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ওই বিশেষ মুহূর্তটির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে জানা যায়, ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বাইলাইনের দিকে যাওয়ার সময় ইয়ামাল তার ডান পায়ের রাবোনা শট বাম পায়ে ঠেকিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার যখন তাকে আটকাতে সামনে এগিয়ে আসেন, তখন অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে দুই পা ও বাম হাঁটুর কারিকুরিতে বল ধরে পোস্টের দিকে এগোতে থাকেন তিনি। সঠিক সুযোগ বুঝে একটি নিখুঁত কাটব্যাক পাস করেন গর্ডনের উদ্দেশ্যে, যাকে কাজে লাগিয়ে ইংলিশ উইঙ্গারটি বল জালে জড়ান।

ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে সিবিএস-এর হয়ে থিয়েরি অঁরির করা প্রশ্নের জবাবে ইয়ামাল তার এই ড্রিবলিং মুভটিকে অভিহিত করেছেন 'প্রায় রাবোনা' হিসেবে। স্প্যানিশ এই উইঙ্গার জানান, তার লক্ষ্য ছিল মুভটি কার্যকর করা এবং গর্ডনের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, যা সফল হয়েছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, সম্প্রতি তিনি লক্ষ্য করেছেন বাইলাইনে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা প্রায়ই ডাইভ দেন বা ভারসাম্য হারান। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জায়গা তৈরি করার কৌশল তিনি রপ্ত করেছেন এবং এই ম্যাচে সেটি দারুণভাবে কাজ করেছে।

বল নিয়ে কারিকুরি বা ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করার কৌশল ইয়ামালের খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, জায়গা তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ভান করা বা ফেক মুভমেন্ট অত্যন্ত জরুরি, কারণ ডিফেন্ডাররা খুব কাছাকাছি এসে আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এই কৌশলের মাধ্যমেই তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসরের প্রথম দুই ম্যাচে ইতিমধ্যেই চারটি অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগে বিশেষ প্রভাব ফেলেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।