ছুটির দিন মানেই দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে মুক্তি। এই অবসর সময়টিকে আরও আনন্দময় করতে এক কাপ কফি হতে পারে দারুণ সঙ্গী। তাড়াহুড়া ছেড়ে ধীরে সুস্থে সকাল কাটানো, বই পড়া কিংবা নিজের সাথে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতে কফি এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘ এই বিশেষ দিনে কফি উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত কৃষক ও শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করেছে।
বন্ধুবান্ধবের সাথে ছুটির দিনের আড্ডায় এবার নতুনত্ব আনা যেতে পারে। কেবল কফি পানেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের কফি অর্ডার করে একে অপরের কাপ থেকে চেখে দেখতে পারেন, যা পরবর্তী পছন্দের কফি নির্বাচনে সাহায্য করবে। এছাড়া 'কফি স্মৃতি' নামে একটি আড্ডা সাজানো যেতে পারে, যেখানে জীবনের বিশেষ কোনো ঘটনার সাথে জড়িয়ে থাকা কফির অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হবে। যেমন— প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ বা প্রিয় মানুষের সাথে প্রথম দেখার স্মৃতি।
সঙ্গীর সাথে সময় কাটাতে চাইলে খুব বেশি আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। জানালার পাশে পাশাপাশি বসে বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে গল্প করা এবং ভিন্ন স্বাদের দুটি কফি ও হালকা নাস্তা উপভোগ করা হতে পারে একটি একান্ত মুহূর্ত। এছাড়া কোন কফিশপের পরিবেশ বা কোন কফির স্বাদ সবচেয়ে ভালো, তা নিয়ে একটি 'কফি তালিকা' তৈরি করে রাখা যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখার অনুপ্রেরণা দেবে।
একাকী কফি পানের অভ্যাসটিও হতে পারে আত্মিক প্রশান্তির উৎস। পছন্দের একটি বই নিয়ে নিরিবিলি কোনো কোণে বসে কফির সাথে নিজের ডায়েরিতে আগামী মাসের পরিকল্পনা বা অনুভূতি লিখে রাখা যেতে পারে। ডিজিটাল ডিভাইসের মোহ ছেড়ে কফি, বই আর নিজের সাথে কাটানো এই সময়টি হতে পারে উদযাপনের ভিন্নধর্মী পদ্ধতি। যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তারা কফির কাপ, বই এবং পরিবেশের নান্দনিকতাকে ক্যামেরাবন্দি করে ছোট গল্প তৈরি করতে পারেন।
কফিশপে বসার জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য বিবেচনা করা জরুরি। দীর্ঘ আড্ডার জন্য প্রশস্ত টেবিল, সঙ্গীর সাথে সময় কাটাতে জানালার ধার এবং পড়াশোনা বা বই পড়ার জন্য নিরিবিলি কোণ বেছে নেওয়া শ্রেয়। ছবি তোলার জন্য পর্যাপ্ত আলোযুক্ত স্থান এবং কাজ করার জন্য কম চলাচলের জায়গা নির্বাচন করা উচিত। এছাড়া ছাদ বা খোলা বারান্দাও হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কেন্দ্র।
কফির সাথে খাবারের বৈচিত্র্য আনতে মিষ্টির পাশাপাশি নোনতা খাবারও বেছে নেওয়া যায়। ব্ল্যাক কফির সাথে মিষ্টি খাবার এবং দুধযুক্ত কফির সাথে হালকা নোনতা স্ন্যাকস বেশ মানানসই। কেক, বিস্কুট, পেস্ট্রি, স্যান্ডউইচ, পনির বা বাদাম জাতীয় খাবার কফির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। তবে ক্ষুধা থাকলে স্যুপ বা পাস্তার মতো পরিমিত খাবার খাওয়া যেতে পারে।
কফি দিবসে আরও বিশেষ কিছু করতে চাইলে 'কফি ভ্রমণ' করা যেতে পারে, যেখানে একই দিনে দুই-তিনটি ভিন্ন কফিশপে গিয়ে ছোট কাপে বিভিন্ন স্বাদের কফি পরখ করা যায়। এছাড়া কফির রঙের সাথে মিলিয়ে বাদামি, ক্রিম বা কালো পোশাক পরে ছবি তোলার মাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখা সম্ভব। ঢাকা শহরের গ্লোরিয়া জিন্স কফিজ, নর্থ এন্ড কফি রোস্টার্স, তাবাক কফি, অ্যাওয়েক কফি রোস্টার্স, কোল অ্যান্ড কফি এবং ওরো কফি রোস্টার্স-এর মতো জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে এই ছুটির দিনের কফি উপভোগ করা যেতে পারে।




