জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক যুবককে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে রোববার দুপুরে ওই যুবককে আটক করে এই ঘটনা ঘটানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এই সময় মনির নামের এক রিকশাচালক ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় 'জয় বাংলা' স্লোগান দিলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয় এবং পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ওই যুবককে ধরে নিয়ে আসেন। এরপর হিমেল ওই যুবকের চুল ধরে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন। মারধরের সময় ওই যুবক বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করলেও হামলাকারীরা থামেননি। এই ঘটনায় মেহেদি হাসান হিমেলের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
পরবর্তীতে মারধর শেষে ওই যুবককে কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, জবি ছাত্রদলের সদস্যরা একজনকে ধরে তাদের কাছে এনেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম মনির এবং গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে একজন রিকশাচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ওসি আরও জানান, যুবকের পরিচয় এবং তার এলাকায় খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যদি নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




