চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল শনিবার খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই কার্যক্রমে নগরের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (শহর) মোহাম্মদ ফারহান ইসলামের নেতৃত্বে দলটি বেকারি, খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা, সুপারশপ এবং রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করে। আজ রোববার সকালে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা এসব প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। অভিযানে জনস্বাস্থ্যকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অর্থদণ্ড অনাদায়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথমে উল্লেখ করা যায় রিও ক্যাফে–মাজায়দারের কথা। সেখানে পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল বলে প্রমাণ মেলে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য প্রস্তুতকারী কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় আরও গুরুতর চিত্র ফুটে ওঠে। ব্যবহৃত মিষ্টির উচ্ছিষ্ট অংশ পুনরায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা সরাসরি ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এর পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক ও বিস্কুটের উপস্থিতি ধরা পড়ে। কারখানার ভেতরের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত নোংরা—স্যাঁতসেঁতে মেঝে, ভাঙা টাইলস এবং অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা সেখানে লক্ষ্য করা যায়। এসব কারণে বেকারিটিকে ১৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের কারখানার বিভিন্ন অংশে তেলাপোকার বিচরণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ম্যাঙ্গো বার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত পাল্প সংরক্ষণের ড্রামের ভেতরেও পোকামাকড়ের অস্তিত্ব ধরা পড়ে, যা খাদ্য নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় নিমকি ও চিপস উৎপাদনের প্রমাণও অভিযানে মেলে। এ প্রতিষ্ঠানের ওপর ১০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। অন্যদিকে, উৎসব সুপারশপেও একাধিক অনিয়ম চিহ্নিত হয়। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট হয়ে যাওয়া মরিচ, বিভিন্ন ধরনের মসলা ও চকলেট সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং নিম্নমানের আচার ও হোমমেড পণ্য বিক্রির বিষয়ও ধরা পড়ে। সুপারশপটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানান, সংক্ষিপ্ত বিচারকাজের সময় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইনের বিধান মেনে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



