চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে রোববার দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজির মামলার শুনানি শেষে সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্ত পরিচালনার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ রয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আরমান উদ্দিনের। তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছেন সহযোগী মো. আরিফ উদ্দীন, শওকত আলী, মো. আরমান উদ্দিন, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন।
বাদী আমির হোসেন লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার প্রবাসফেরত বাসিন্দা। তিনি আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় দোকান স্থাপন করেন এবং অন্যান্য অংশ ভাড়াটিয়াদের কাছে হস্তান্তর করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় আসামি আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রথম আসামি আরিফ উদ্দীন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আসামিরা বাদীর ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেসসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী লুট করে নিয়ে যান; এসব মালামালের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের একটি নগদ রাখার টেবিলসহ ভেতরে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরবর্তীতে দোকানের ভাঙা অংশে আসামিরা নতুন তালা লাগিয়ে দেন। পাশাপাশি ভবনের অন্যান্য ভাড়াটিয়াদেরকেও তাঁদের মাধ্যমে বাসাভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আসামিরা বাদীর বাজারে উপস্থিত হয়ে একটি বৈঠক করেন। সেখানে আরিফ উদ্দীন বলেন, নির্ধারিত ২০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধ না করা হলে তাঁরা বাদীর দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না। একই সময়ে আরমান উদ্দিন মুঠোফোনে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের কথামতো চলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ। এরপর আসামিরা বাদী আমির হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে মামলায় বর্ণিত হয়েছে।
বাদী আমির হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলে তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি চাঁদা দাবির ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করেন। অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর কাছে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আদালতে মামলার মাধ্যমে সামনে এলো।




