চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত একটি দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় দুই কারখানা শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার সকাল প্রায় আটটার দিকে বালুছড়া এলাকায় অবস্থিত ভিজ্যুয়াল গার্মেন্টসের সামনের সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন অরুণ দাশ (৫৯) ও আজিজুল হক (২২); দুজনেই প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলের উদ্দেশে হেঁটে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কারখানার নিকটেই তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত নেমে আসে।
অরুণ দাশ বালুছড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং ভিজ্যুয়াল গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে আজিজুল হক লয়াল টেক্সটাইল গার্মেন্টসে কাজ করতেন, যদিও তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। ঘটনার সময় হাটহাজারীমুখী ৩ নম্বর রুটের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে দুই শ্রমিকসহ এক নারী পথচারীও আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহত নারী প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন; কিন্তু শ্রমিক দুজনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
কারখানার কর্মী মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, সকালে অরুণ ও আজিজুল হেঁটে অফিসের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই বাসটি তাদের ধাক্কা দেয়। এতে দুজন এবং ওই নারী পথচারী আহত হন। অরুণকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজিজুলের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে আইসিইউর প্রয়োজন দেখা দেয়। পরবর্তীতে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আলেম আশেক অরুণ দাশের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, আজিজুল হককে প্রথমে একই হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম প্রথম আলোকে জানান, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা বাস ও চালককে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। ইতোমধ্যে চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
দুই শ্রমিকের অকাল মৃত্যুর খবরে তাদের কর্মস্থলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজিজুল হকের সহকর্মী আবদুল্লাহ আল আয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, আগের দিন হাসি-ঠাট্টার মধ্যে যার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই সহকর্মী স্মৃতি হয়ে গেছেন—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অফিসের সামনেই এই দুর্ঘটনায় আজিজুলের মৃত্যু হয়েছে, যা সহকর্মীদের মনে গভীর আঘাত হেনেছে।




