চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে ছাত্র সংসদের সহসভাপতিকে (ভিপি) ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ওই নেতা বলেছেন, ভিপির ক্ষমতা আর মাত্র ২৮ দিন থাকবে, এরপর তাকে হলে থেকে বের করে দেওয়া হবে। ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আটটার দিকে অতীশ দীপঙ্কর হলে এ ঘটনা ঘটে। হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিন। ওই সময় হলের এক আবাসিক শিক্ষকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ওই দিন সন্ধ্যায়। এক তরুণ ব্যাগ নিয়ে হলে এসে ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠছেন বলে রিপুল চাকমা জানতে পারেন। তিনি সন্দেহ করেন, অবৈধভাবে কাউকে হলে তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক নূরে আলমকে জানান। শিক্ষক ওই কক্ষ পরিদর্শনে যান। সঙ্গে ছিলেন রিপুলসহ কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী।

ওই কক্ষেই থাকেন ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন। শিক্ষক নতুন কেউ উঠেছেন কি না জানতে চাইলে রিপুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন নাসিম। একপর্যায়ে তিনি রিপুলকে হল থেকে পিটিয়ে বের করার হুমকি দেন। রিপুল জানান, আবাসিক শিক্ষকের সামনেই ঘটনাটি ঘটে। নাসিম তাকে মারতে এগিয়ে এলে অন্য শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। তার কাছে ঘটনার ভিডিও আছে বলেও জানান তিনি। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং চাকসু নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

অন্যদিকে, শেখ নাসিম উদ্দিন দাবি করেন, রিপুল তাকে গালিগালাজ করেছেন এবং ভিপির ক্ষমতা দেখিয়ে হলের গেটে তালা দেওয়ার কথা বলেন। এতেই তিনি ক্ষুব্ধ হন। তবে গেটে তালা লাগানো এবং গালিগালাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপুল। নাসিম বলেন, তার কক্ষে কয়েকজন জুনিয়র বেড়াতে এসেছিলেন, সেই সুযোগে রিপুল মিথ্যা অভিযোগ এনে আবাসিক শিক্ষককে ডেকে আনেন। আগেও রিপুল একাধিকবার এ ধরনের কাজ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হলের প্রাধ্যক্ষ এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, এটি দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর সেখানে ছিলেন এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর কামরুল হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসন তল্লাশি চালায়, কিন্তু কোনো অবৈধ শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে, পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কারও অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে দিতে বলা হয়েছে; তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, দলের পরিচয়ে কেউ শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে এবং তা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।