চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিভক্তি আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। শনিবার শহরের দুটি ভিন্ন স্থানে দলের দুটি পৃথক গ্রুপ আলাদাভাবে এই দিবসটি পালন করে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রথম কর্মসূচিটি ছিল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে। বেলা তিনটায় পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে গোলাম জাকারিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম। এই অংশের দাবি, তারা দলের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবেই কর্মসূচিটি পালন করেছেন। সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ২০২২ সালে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা জেলা বিএনপির হয়েই এই আয়োজন করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, হারুনুর রশীদ ও আশিফা আশরাফির সঙ্গে বিএনপির বর্তমানে কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাদের পৃথক কর্মসূচি পালনের কারণ তাদেরই জানা উচিত।
ঠিক একই সময়ে হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপির অন্য একটি অংশের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এবং সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া। নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হারুনুর রশীদ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে কথা বলেন সৈয়দা আশিফা আশরাফি।
অন্যদিকে, opposing পক্ষটির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন আশিফা আশরাফি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেবল দলের পদে বা পোস্টে থাকলেই কেউ বিএনপির সদস্য হয়ে যান কি না। তাঁর মতে, যারা নৌকার মঞ্চে উঠেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন কিংবা দাঁড়িপাল্লার মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, তারা বিএনপির প্রকৃত কর্মী হতে পারেন না; বরং তাদের জামায়াতের অংশ হিসেবেই গণ্য করা উচিত। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।




